হোম > সারা দেশ > চাঁদপুর

আসলের মোড়কে নকল প্রসাধনী, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফরিদগঞ্জের ক্রেতারা

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

প্যাকেট, টিউব ও রং—সবই দেখতে আসল পণ্যের মতো। কিন্তু ভেতরে থাকা প্রসাধনী নকল ও মানহীন বলে অভিযোগ উঠেছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতে শীতের প্রসাধনী সামগ্রীর পাশাপাশি নকল প্রসাধনীরও বিস্তার ঘটছে। উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বিপণিবিতানেও এসব পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা, বাড়ছে ত্বকের নানা সমস্যার ঝুঁকি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জ বাজারের ভান্ডারী মহল, মধ্যবাজারের তালুকদার প্লাজা ও লাকী প্লাজা, রূপসা বাজার, গৃদকালিন্দিয়া বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাট-বাজারের প্রসাধনীর দোকানে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। কিছু পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের নাম, মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ, ব্যাচ নম্বর ও খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও সেগুলো আসল নাকি নকল, তা সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে বোঝা কঠিন। বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর ভিড়ে আসল ও নকল পণ্য মিশে যাওয়ায় ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বেশি লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এসব পণ্য বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রসাধনী বিক্রেতা জানান, তাঁরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনী কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কিনে বিক্রি করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হেড অ্যান্ড শোল্ডারস, সানসিল্ক, প্যানটিন, গার্নিয়ার, ডাভ, নিভিয়া, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ও মেরিলের ক্রিমসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু, লিপস্টিক ও লোশন। তাঁদের দাবি, কোম্পানির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ হওয়ায় অনেক সময় নকল পণ্য চেনার সুযোগ থাকে না।

বিক্রেতাদের কয়েকজনের ভাষ্য, রং ফর্সাকারী ক্রিমের ক্ষেত্রে নকল পণ্যের অভিযোগ বেশি শোনা যায়। নতুন নতুন ব্র্যান্ডের নামে এসব ক্রিম বাজারে আসছে। বিশেষ করে গ্রামের দোকানগুলোতে এসব পণ্য ছড়িয়ে পড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় কোনো কোনো দোকানি এসব ক্রিম বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ত্বক বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা বলছেন, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি, অ্যালার্জি, প্রদাহসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান থাকলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই প্রসাধনী কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

উপজেলার পূর্ব বড়ালী গ্রামের গৃহবধূ শাহীন বেগম জানান, মোড়কে হিন্দি ভাষায় লেখা ত্বক ফর্সাকারী একটি ক্রিম ব্যবহার করার পর তিনি ত্বকের সমস্যায় পড়েন। পরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয় তাঁকে।

কলেজশিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ফরিদগঞ্জ বাজারের একটি দোকান থেকে ফর্সাকারী ক্রিম ও লোশন কিনে তিনি, তাঁর ছোট বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যবহার করেছিলেন। এরপর তাঁদের সবার চুলকানি ও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। তাঁর ভাষ্য, আগে তাঁদের এ ধরনের সমস্যা ছিল না।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে চর্ম ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অনেক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রসাধনী ব্যবহারের পর তাঁদের এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। নকল প্রসাধনী ত্বক বা শরীরে ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। তাই প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিছুর রহমান জানান, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগ দিয়েছেন। উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রসাধনীসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণা, চক্রের আরও ৩ জন গ্রেপ্তার

মেঘনায় ইলিশ শিকারের দায়ে ৩০ জেলের কারাদণ্ড

চাঁদপুরে ১০ মণ ইলিশসহ ২১ জেলে গ্রেপ্তার, ৬ নৌকা জব্দ

চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে এমপি মানিকের ঝটিকা অভিযান, ৩ দালাল আটক

চাঁদপুরে কসমেটিকস ও শিশুদের পণ্যে স্টিকার জালিয়াতির অভিযোগে জরিমানা

চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেপ্তার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬

চাঁদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পণ্য বিক্রির দায়ে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চাঁদপুরে ইলিশ শিকার করায় ২৪ জনের কারাদণ্ড

দেশকে এগিয়ে নিতে কৃষক ও কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত