চাঁদপুরের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মুখে পরিবারসহ হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে তাঁদের আটক বা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দলঘাট দাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল।
বর্তমানে পিন্টু দাসকে চাঁদপুর থানা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাঁর পরিবারকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ব্রিফিং কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস গত ১৯ আগস্ট রাতে শহরের কালীবাড়ি মন্দিরসংলগ্ন সৌর ভিলার ভাড়া বাসা থেকে মালামাল গুটিয়ে পরিবারসহ চলে যান। গত ২৬ আগস্ট বিষয়টিকে ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হলে অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পায়, পিন্টু দাস মালামালসহ গাড়ি নিয়ে বাসা ত্যাগ করেছেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজে প্রাপ্ত গাড়ির নম্বর এবং চালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং পটিয়া থানা-পুলিশের সহযোগিতায় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস জানিয়েছেন, বিপুল অঙ্কের ঋণের দায়ে পড়ে পাওনাদারদের এড়াতেই তিনি পরিবার নিয়ে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। তবে পুলিশ বিষয়টিকে কেবল ঋণের ঘটনা হিসেবেই দেখছে না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তিনি ঋণের কথা বললেও এর পেছনে অন্য কোনো কারণ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঢাকা থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’
উদ্ধারের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে পিন্টু দাসকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বহিরাগত বা গণমাধ্যমকর্মীকে তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হবে না।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া বাসার মালামাল নিয়ে উধাও হওয়ার পর গত ২২ আগস্ট বাড়ির মালিকের ছেলে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি মর্মান্তিক ঘটনার পর চাঁদপুর থেকে একটি পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন জুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধানে নামে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, চাঁদপুর মডেল থানার রিকুইজিশনের ভিত্তিতে পটিয়া পুলিশ অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেছে।
তবে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। কোনো ভুক্তভোগী বা পাওনাদার মামলা দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।