চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে ক্ষুব্ধ একদল যুবক পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর করে আটকে রাখেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চির্কা গ্রামে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে ধানুয়া গ্রাম থেকে মো. আব্দুল কাদের নামের ওই কর্মীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের আওতাধীন চির্কা উপকেন্দ্রে গতকাল সকালে লাইনম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মো. ইব্রাহিম ও মো. আব্দুল কাদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল যুবক উপকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রথমে ইব্রাহিমকে মারধর করেন। পরে তাঁরা আব্দুল কাদেরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উত্তর ধানুয়া গ্রামে আটকে রাখেন।
ঘটনা জানার পর পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওঅ্যান্ডএম) মোহাম্মদ নাজির উল্লাহ স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের সহায়তায় সমঝোতা বৈঠক করেন। পরে লাইনম্যান আব্দুল কাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার রাতেই পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. সাইফুল আলম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা আব্দুল কাদেরকে মারধরের পাশাপাশি তাঁর কাছে থাকা ২৩ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে এবং তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, আব্দুল আওয়াল, মিন্টু মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হলেও আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল আসছে। সমাধানের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে গেলে তাঁরা খারাপ আচরণ করেন। তাঁরা আরও বলেন, কয়েক দিন আগে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম এক নারীর সঙ্গে ধরা খেয়ে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁরা আসলে সেবা দিতে আসেননি, এসেছেন মানুষকে হয়রানি করতে।
স্থানীয় সমাজসেবক মেহেদী হাসান মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং চলছে। কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ বিল আসছে অতিরিক্ত। বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন দিলে তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করে।’ তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন স্থানীয় জনতা উপকেন্দ্রে গেলে লাইনম্যান আব্দুল কাদের সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে নিয়ে আসেন। পরে এজিএমের ফোনের পর স্থানীয় কয়েকজন মিলে বসে বিষয়টি সমাধান করেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহআলম শেখ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিলের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সমাধানের জন্য গেলে কর্তৃপক্ষ কর্ণপাত করে না। লাইনম্যান আব্দুল কাদেরও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে খারাপ আচরণ করেছেন বলে তিনি জেনেছেন।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই।’
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, পল্লী বিদ্যুৎকর্মীকে মারধর ও আটকে রাখার একটি লিখিত অভিযোগ পুলিশ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।