চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল আলম জজ (৭২) মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রফিকুল আলম জজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর চাচাতো ভাই মো. মিরাজ। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত রফিকুল আলম জজ উন্নত চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ দেশে আনা হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মতলব উত্তর উপজেলার জজনগর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
রফিকুল আলম জজের মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, তিন মেয়ে, এক ছেলে, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি জজনগর গ্রামের মরহুম আবু নাছের ওয়াহেদের সন্তান।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন রফিকুল আলম জজ। তিনি জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং জজ আইডিয়াল কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজকে একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আলী হোসেন বলেন, ‘তিনি শুধু একজন প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না, আমাদের অভিভাবকও ছিলেন। শিক্ষার উন্নয়নে তার অবদান এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
স্থানীয় সরকারেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। জাতীয় পার্টির রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে ছেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরে পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘সাবেক মেয়রের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’