হোম > সারা দেশ > ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দুই কোটি টাকার পূর্ণ স্কলারশিপে যুক্তরাষ্ট্রে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করবেন ইভা

আখাউড়া(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। ছবি: সংগৃহীত

নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ স্কলারশিপে মাস্টার্স শেষ করেছেন তিনি। এবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডির জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়েছেন। এ পিএইচডি প্রোগ্রামের মোট ফান্ডিং বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পুত্রবধূ এবং চট্টগ্রাম নগরের উত্তর হালিশহর এলাকার ওসি মিয়া চৌধুরী বাড়ির মোহাম্মদ লোকমান চৌধুরীর মেয়ে।

ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের তুলাই শিমুল গ্রামের ব্যবসায়ী জুলমত খাঁনের ছেলে চিকিৎসক রোমান খাঁনের স্ত্রী। বর্তমানে তাঁরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন ছিল ফাহমিদার। সেই লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ স্কলারশিপে মাস্টার্স করার সুযোগ পান তিনি।

মাস্টার্সের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাকর্মেও সাফল্য অর্জন করেন ফাহমিদা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে নিজের গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন তিনি।

মাস্টার্স সফলভাবে সম্পন্ন করার পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি করার সুযোগ পান ফাহমিদা। এ জন্য তাঁকে পূর্ণ স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। পিএইচডি প্রোগ্রামের পুরো ফান্ডিংয়ের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় দুই কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে।

ফাহমিদার এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর স্বপ্নের শুরুতে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন বাবা। নানা বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মেয়েকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করান এবং পড়াশোনায় সব সময় উৎসাহ ও সহযোগিতা করেন। বাবার সেই বিশ্বাস ও সমর্থনই ফাহমিদাকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়।

বিয়ের পরও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি ফাহমিদা। বরং তাঁর স্বামী চিকিৎসক রোমান খাঁন বিদেশে পড়াশোনা ও নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণার স্বপ্নকে সম্মান করে সব সময় তাঁর পাশে থেকেছেন এবং এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে ফাহমিদা আক্তার চৌধুরী ইভা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সামনে আরও ভালো গবেষণা করার মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।’

ইভার এই অর্জনে গর্বিত তাঁর স্বামী চিকিৎসক রোমান খাঁন। তিনি বলেন, ‘ইভার নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য সম্পর্কে শুরু থেকেই আমি জানতাম। সে যেন পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই চেয়েছি। তার এই অর্জনে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।’