হোম > সারা দেশ > বগুড়া

অটোভ্যান চুরির সাক্ষী হওয়ায় খুন শিশু রাজু, মরদেহ উদ্ধার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  

গ্রেপ্তার করিম ও মুস্তাকিম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার শেরপুরে নিখোঁজের দেড় দিন পর সাত বছর বয়সী শিশু রাজুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। অটোভ্যান চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মইনুদ্দীন। এর আগে বিকেলে উপজেলার রানীরহাট বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাজু শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের জনক আলমের ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন একই গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাকিম (২৪)। রাজু মাঝেমধ্যে মুস্তাকিমের ভগ্নিপতির মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে কৃষিকাজে সহায়তা করত। পুলিশের ভাষ্য, ভগ্নিপতির অটোভ্যানটি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন মুস্তাকিম। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় রাজুকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, মির্জাপুর এলাকার ব্যবসায়ী করিমের কাছে অটোভ্যানটি বিক্রির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাজুকে সঙ্গে দেখে করিম আপত্তি জানান। তখন চুরির একমাত্র সাক্ষী হিসেবে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে রাজুকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার একটি ধানখেতে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

রাজুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মুস্তাকিমের বাড়িতে খোঁজ করেন। এরপর আরও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও না পেয়ে আজ দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর বাবা জনক আলম শেরপুর থানায় মামলা করেন। অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী রায়গঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ি থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেখানো স্থান থেকে তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের ধানখেত থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে করিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে চুরি হওয়া অটোভ্যানের চারটি ব্যাটারি, দুটি চাকা, চেসিস ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।

শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, শিশুটির মাথা কাদামাটির নিচে চাপা অবস্থায় ছিল। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সময় ও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয় এবং আজ দুপুরে আনুষ্ঠানিক মামলা নেওয়া হয়। প্রায় দেড় দিনের মধ্যেই আসামি গ্রেপ্তার, মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন সম্ভব হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল একটি ‘ক্লুলেস’ অপহরণ ও হত্যার ঘটনা।

শেরপুর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রবাসে গাড়িচালকের মৃত্যু, মানব পাচারকারী ও পুলিশ কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

‘আমার ছেলে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে’

বগুড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার নারী যাত্রী নিহত

ধুনটে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক

শেরপুরে বিস্ফোরক মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

বগুড়ায় স্কুলছাত্র জামিল হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার

বগুড়ায় জমি বিরোধে সাবেক সেনাসদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, কিলঘুষিতে মাঠেই প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

দুর্বৃত্তের বিষে মরল পুকুরের ৬০ মণ মাছ

মধ্যরাতে বিকল ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা, নিহত ২