হোম > সারা দেশ > বগুড়া

সনদ ছাড়া চিকিৎসা দেওয়া সেই ‘চিকিৎসকের’ লাখ টাকা জরিমানা-কারাদণ্ড

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  

ভুয়া চিকিৎসক সুনীল কুমার বিশ্বাসকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার শেরপুরে ডিগ্রি ও চিকিৎসা সনদ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে সুনীল কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেরপুর পৌরসভার স্যানালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান হিমু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, সুনীল প্রায় ২০ বছর ধরে এই এলাকায় চিকিৎসক পরিচয়ে কার্মকান্ড চালাচ্ছেন। মাঝে মধ্যেই ভুল চিকিৎসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। গত ২৪ আগস্ট সুনীল ১২ হাজার টাকা নিয়ে ওসমান আলী (৫) নামে এক শিশুর যৌনাঙ্গে অস্ত্রোপচারের নামে কাটাছেঁড়া করেন। এতে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে তা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সাজা দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম। অভিযানে শেরপুর থানা-পুলিশ ও বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুনীল কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি বা সনদ ছাড়াই রোগী দেখতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা, ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ এবং বিভিন্ন ধরনের শল্যচিকিৎসা করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানের সময় তাঁর চেম্বার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষিদ্ধ ওষুধসহ বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘ডিগ্রি ও সনদ ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা সম্পূর্ণ বেআইনি। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’