বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী বাঁধে ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে এই ভাঙন দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে বালুভর্তি জিও টেক্স বস্তা ও জিও টিউব ব্যাগ পানিতে ফেলে স্পার রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে ১২ জুলাই স্পারের ৩০ মিটার ধসে যায়।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে যমুনা নদীর ভাঙনরোধে শহড়াবাড়ী ও বানিয়াজান গ্রামের নিকট আড়াআড়িভাবে ১ হাজার ১০০ মিটার দৈর্ঘ্য করে দুটি স্পার নির্মাণ করা হয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই দুটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া বাঁধের মাথায় নদীর ভেতরে ৩০০ মিটার কংক্রিট ঢালাই করা হয়। নির্মাণের পর থেকে পানির স্রোতে দফায় দফায় শহড়াবাড়ী বাঁধের কংক্রিট ঢালাই টুকু আগেই ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি ৮০০ মিটার বাঁধ ছিল মাটির তৈরি। এই মাটির তৈরি বাঁধ রক্ষায় নদীর ভেতরে হাজার হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
এই অবস্থায় ১২ জুলাই পানির প্রবল স্রোতে শহড়াবাড়ী বাঁধের সামনের অংশ ৩০ মিটার ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বাঁধের পেছনে রয়েছে শত শত পরিবারের বাড়িঘর। এই ভাঙন প্রতিরোধ না করা গেলে এসব বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়ে যাবে। এসব পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়বে।
শহড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে ১০০ মিটার অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না করা গেলে এলাকা শেষ হয়ে যাবে। কারও ঘরবাড়ি বসতভিটা কিছুই থাকবে না।
বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক মোবাইল ফোনে বলেন, ১২ জুলাই বাঁধের ৩০ মিটার অংশ পানিতে ধসে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে জিও টিউব ও জিও টেক্সট ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সেই স্থানে আবারও প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনরোধের জন্য নৌকা দিয়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষার চেষ্টা চলছে।