হোম > সারা দেশ > বগুড়া

আদমদীঘিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের বর্জ্য ফেলা হলো সান্তাহার পৌর শহরের রাস্তায়

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সান্তাহার পৌর শহরের রাস্তার পাশে এনে ফেলা হচ্ছে আদমদীঘির বর্জ্য। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে সংগৃহীত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়েছে সান্তাহার পৌর শহরের রাস্তার পাশে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাটোর বাইপাস সড়কে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের সামনে রাস্তায় ময়লা এনে ফেলায় পরিবেশদূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও জন চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে।

সান্তাহার পৌর শহরের মালশন, সাহেবপাড়া, পাথরকুটা, দোগাছী, তারাপুর ও ছাতনী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। অভিযানে সংগৃহীত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে সান্তাহার পৌর শহরের নাটোর বাইপাস সড়কে ফেলা হচ্ছে।

মালশন গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজসেবক শাহাজাহান আলম স্বপন বলেন, ‘এক এলাকার পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্য এলাকার পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ভাগাড়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

পাথরকুটা গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এমনিতেই পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো ভাগাড় নেই। তারপর যদি অন্য এলাকার ময়লা এনে এখানে ফেলা হয়, তাহলে এলাকায় আর টিকে থাকা যাবে না। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করে দ্রুত নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ভাগাড়ের ব্যবস্থা করা হোক।’

দোগাছী গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, সান্তাহার পৌরসভার নিজস্ব নির্দিষ্ট ময়লা-আবর্জনা ফেলার ভাগাড় না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। আদমদীঘি সদরের ময়লা-আবর্জনা সান্তাহারে ফেলায় পৌর শহরে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

সান্তাহার সচেতন নাগরিক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অন্য এলাকার ময়লা সান্তাহারে এনে ফেলায় আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান করা দরকার। অবিলম্বে আদমদীঘির পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা-আবর্জনা সান্তাহারে ফেলা বন্ধ করা হোক।’

আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, সান্তাহার পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকার বাসিন্দাদের অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’