হোম > সারা দেশ > বগুড়া

বগুড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জেরে রেলস্টেশনে হামলা, যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি

রেলওয়ের জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার সোনাতলা রেলস্টেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনায় স্টেশনমাস্টারসহ রেলওয়ের সাত কর্মী আহত হন। হামলার সময় বুকিং কাউন্টারের কম্পিউটার ভাঙচুর ও এক কর্মকর্তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে স্টেশনের সব কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন রেলওয়ের কর্মীরা।

আহত ব্যক্তিরা হলেন সোনাতলা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম, সহকারী স্টেশনমাস্টার আব্দুল মাজেদ, বুকিং-মাস্টার মাসুম পারভেজ, পয়েন্টসম্যান সাজ্জাদুর রহমান ও সোয়াইব হোসেন, পিওন দুলাল হোসেন এবং রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ।

স্টেশনমাস্টার রবিউল ইসলাম বলেন, স্টেশনের উত্তর পাশে ফাঁকা জায়গায় গত দুই দিন ধরে একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সেখানে গিয়ে কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে এক শ্রমিক তাঁকে বলেন, কাজের আশপাশে এলে সমস্যা হবে। পরে বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

রবিউল ইসলাম বলেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম আলীর নেতৃত্বে কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে দেন। এর কিছুক্ষণ পর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল স্টেশনে ঢুকে তাঁর কক্ষের দরজা বন্ধ করে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একই সময় বুকিং কাউন্টারে ঢুকে কম্পিউটার ভাঙচুর করা হয়।

রবিউল ইসলামের ভাষ্য, রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী শামিম আহমেদ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। সোনাতলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান বাবু জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। পরে শুনেছেন, রেলওয়ের কর্মীদের সঙ্গে লোকজনের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে তাঁরা স্টেশনে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।

কামরুল হাসান দাবি করেন, রেলস্টেশনের পাশে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঠিকাদার একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করছিলেন। গতকাল স্টেশনমাস্টার সেখানে গিয়ে জায়গাটি লিজ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ দাবি করেন বলে তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ ছিলেন। আজ কোনো নোটিশ ছাড়াই স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

সোনাতলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আমি অল্প সময়ের জন্য সেখানে ছিলাম। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী আসলাম হোসেন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কাজ ছিল না। টয়লেট নির্মাণের কথা বলে স্থাপনা তৈরি করে পরে সেটি দোকান হিসেবে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, স্থাপনা উচ্ছেদের পর মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল স্টেশনে এসে মব সৃষ্টি করে রেলওয়ের কর্মীদের মারধর করেছে।

সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কারা হামলা করেছে, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।