হোম > সারা দেশ > বগুড়া

ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্টে কিশোরীকে অপহরণ, আসামি গ্রেপ্তার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার আসামি শাহ আলম। ছবি: আজকের পত্রিকা

আদালতে করা ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে বগুড়ার ধুনটে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৯ দিন পর গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের একটি বাসা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার ও মামলার আসামি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শাহ আলম (৪২) উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের সাতবেকি গ্রামের শাহাদৎ প্রামাণিকের ছেলে। আজ সোমবার সকালে অপহৃত কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে দুপুরের দিকে শাহ আলমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্ট দুপুরের দিকে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ১২ আগস্ট কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে শাহ আলমকে আসামি করে বগুড়া জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। ১৫ আগস্ট রাতে সেটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহ আলম একজন মুদি ব্যবসায়ী এবং নিজ বাড়ির পাশেই তাঁর দোকান। ৪ আগস্ট ওই কিশোরী সাবান ও শ্যাম্পু কিনতে তাঁর দোকানে গেলে তিনি কৌশলে ওই কিশোরীকে নিজের ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করেন। এদিকে, মেয়ের বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় কিশোরীর মা দোকানে যান। দোকান বন্ধ পেয়ে তিনি শাহ আলমের বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আসার আগেই শাহ আলম পালিয়ে যান।

এরপর মামলার খবর পেয়ে আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে ১৪ আগস্ট দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে ওই কিশোরীকে আবারও কৌশলে অপহরণ করা হয়। এ কারণে কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে করা মামলাটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি শাহ আলমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে স্কুলছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।