বগুড়া শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে করতোয়া নদীর নির্জন পাড়ের জঙ্গলে তাঁবু টাঙিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি অস্থায়ী আস্তানা। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দাবি, ওই আস্তানা থেকে মাদক ব্যবসা, অস্ত্রের মহড়া, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের মতো অপরাধ পরিচালনা করত একটি চক্র।
গতকার শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বগুড়া ডিবি পুলিশের তিনটি পৃথক দল অভিযান চালিয়ে ওই আস্তানা থেকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, ইলেকট্রিক শক মেশিন ও মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় চক্রের আরও দুই সদস্য করতোয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকার টিএমএসএস পেপার মিলের পেছনে করতোয়া নদীর তীরবর্তী ঘন জঙ্গল এলাকায় তাঁবু টাঙিয়ে অবস্থান নিয়েছিল চক্রটির সদস্যরা। দুর্গম ও নির্জন হওয়ায় ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত কম ছিল। সেই সুযোগে তারা সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন অপরাধের পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড চালাত বলে পুলিশের দাবি।
অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি বড় ছোরা, একটি বার্মিজ চাকু, প্রায় ৩৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতার একটি ইলেকট্রিক শকার মেশিন, একটি লোহার পাইপ, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, চারটি বাটন ফোন এবং একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার মহিষবাথান এলাকার রতন তালুকদারের ছেলে রকি (৩০), উপশহর স্নিগ্ধা আবাসিক এলাকার শাহিন মণ্ডলের ছেলে রাকিব (২৮) এবং দশম শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রকির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া রাকিবের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও দ্রুত বিচার আইনের সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় চক্রটির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত রকি ও তার সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।