দুর্গম যমুনার চর। চারদিকে শুধু বালু আর বালু। মানুষের বসতি নেই, নেই কোলাহল। সেই জনমানবহীন চরেই সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
বগুড়া-জামালপুর সীমান্তঘেঁষা মাদারগঞ্জে যমুনা নদীর তীরবর্তী কাইজার চরে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রকল্প কর্মকর্তাদের আশা, আগামী ২০২৭ সালের জুনে কেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নবায়নযোগ্য উৎসের আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের উত্তর শংকরপুর গ্রামসংলগ্ন জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার জোরখালী ইউনিয়নের কাইজার চরে প্রকল্পটির অবস্থান। সরকারি নথিতে প্রকল্পটির নাম ‘মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প’।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির জন্য ৩৪৮ একরের বেশি খাসজমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমি উন্নয়ন ও মাটি ভরাট, নদীভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণ এবং সৌর প্যানেল স্থাপনের খুঁটি ও ফ্রেম বসানোর কাজ হয়েছে। বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজও এগোচ্ছে।
প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন আকতার বলেন, নির্মাণকাজের বড় একটি অংশ শেষ হয়েছে। তবে আর্থিক ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে একই মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিতে ঘাটাইল ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।