বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের আব্দুল হাই সিদ্দিক। জীবনের ব্যস্ততা কিংবা নিজের পেশার কাজ—কোনো কিছুই তাঁকে থামাতে পারে না মানুষের শেষ বিদায়ের দায়িত্ব থেকে। গ্রামের কারও মৃত্যুর খবর পেলেই ছুটে যান কবরস্থানে। কবর খনন, দাফনের উপযোগী করে প্রস্তুত করা এবং মরদেহ গোসল করানোর কাজ করেন নীরবে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে মানুষের শেষ ঠিকানা তৈরির নীরব কারিগর হয়ে উঠেছেন তিনি।
সান্দিড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা বাবলু মিয়া বলেন, একজন মানুষের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও পরিশ্রমের কাজ। আব্দুল হাই সিদ্দিক মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বছরের পর বছর এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর এই নীরব সেবাকে এলাকাবাসী মহৎ ও মানবিক কাজ হিসেবে দেখেন। জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও মৃত্যুর পর মানুষের শেষ ঠিকানা তৈরির এই কাজের মাধ্যমে আব্দুল হাই সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আব্দুল হাই সিদ্দিক সান্দিড়া গ্রামের মৃত হাফিজার রহমান মাস্টারের ছেলে। পেশায় তিনি মৎস্য ব্যবসায়ী। তবে নিজের পেশার বাইরেও মানুষের শেষ বিদায়ের এই দায়িত্বটি দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছেন তিনি।
দমদমা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য শিপলু খান বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষের জীবনের ভিন্ন ভিন্ন গল্প থাকলেও আব্দুল হাই সিদ্দিকের গল্পটি একটু ব্যতিক্রম। তিনি মানুষের শেষ ঠিকানার কারিগর। শুধু সান্দিড়া নয়, আশপাশের গ্রামের কেউ মারা গেলেও খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান। কবর প্রস্তুত করা ও মরদেহ গোসল করিয়ে দেওয়ার কাজ করেন।’
এ বিষয়ে শেষ ঠিকানার কারিগর আব্দুল হাই সিদ্দিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থেকে মৃত ব্যক্তির দাফনের জন্য কবর প্রস্তুত ও গোসল করিয়ে দেওয়ার কাজ করে যেতে চাই। এই কাজ করতে আমার ভালো লাগে। এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক কবর প্রস্তুত করেছি এবং মৃত ব্যক্তিদের গোসল করিয়েছি।’