হোম > সারা দেশ > বগুড়া

ধুনটে বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রথমে সালিস পরে মামলা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী বাক্‌প্রতিবন্ধী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর, অ-আপসযোগ্য এবং ফৌজদারী অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এলাকাবাসী বিষয়টি সালিসে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত মীমাংসা না হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে পরিবারটি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে রফিকুল ইসলাম মধু (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মধু মথুরাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলতাব আলীর ছেলে। ২২ আগস্ট দুপুরে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীকে বাড়িতে একা রেখে বাবা-মা মাঠে কাজ করতে যান। এ সময় সুযোগ পেয়ে রফিকুল ইসলাম মধু তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন এবং কৌশলে একটি দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। অবস্থা বেগতিক দেখে মধু ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান। এই ঘটনা নিয়ে ওই দিন রাত ৯টার দিকে এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে মধু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

তবে সালিসে আপস মীমাংসা হয় নাই। ফলে এলাকায় বিচার না পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মধুকে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেছেন।

এদিকে সালিস বৈঠকের পরই রফিকুল ইসলাম মধু এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

সালিসের বিষয়ে স্থানীয় জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ওইভাবে কোনো সালিস বৈঠক করা হয় নাই। যেহেতু ঘটনাটা আপস মীমাংসা করার কোনো সুযোগ নাই, তাই ঘটনাটি সত্য কী না, যাচাই করতে গ্রামের মাতবর চান মিয়া, লোকমান হোসেন, কুড়ানসহ কয়েকজন রফিকুল ইসলাম মধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করায় কিশোরীর বাবাকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।’

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের শিকার বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।