ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি গ্রামে শিশু সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরে থাকা জমি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে তোলা চার লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয় বলে ওই নারী অভিযোগ করেছেন।
ঘটনার দুই দিন পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই নারী চরফ্যাশন থানায় মামলা করেছেন। এতে স্থানীয় তিন যুবককে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন নুর করিম, হানিফ ও নাজমুল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার মামলার বাদী গৃহবধূ জমি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা তুলে বাড়িতে ফেরেন। পরদিন বুধবার সকালে ওই টাকা জমি মালিককে দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য টাকা নিজ ঘরে রাখেন। তিন শিশুসন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করা নারীর স্বামী চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে গৃহবধূ সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভুলবশত ঘরের সিঁড়ির চিলেকোঠার ফটক খোলা ছিল। গভীর রাতে ঘরে কারও হাঁটার শব্দ শুনে তিনি সজাগ হন। এ সময় নুর করিম ও তাঁর সঙ্গীরা হামলা চালিয়ে ওই নারীর হাত ও মুখ বেঁধে রাখেন এবং চার লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকারসহ ঘরের সব মালামাল লুট করেন। একপর্যায়ে শিশুসন্তানদের অস্ত্রের মুখে অন্য একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং গৃহবধূকে নুর করিম, হানিফ ও নাজমুল ধর্ষণ করেন। ঘটনার একপর্যায়ে শিশুরা চিৎকার-কান্নাকাটি করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে নুর করিম বলেন, ‘ওই নারীর বাসায় যে রাতে চুরি হয়, সেই রাতে আমাদের দোকানেও চুরি হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আমার বিরোধ আছে, এটা ঠিক। তবে ধর্ষণের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাখলুকুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার হয়েছেন জানিয়ে এক নারী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানা-পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে এক নারী তিনজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’