ভোলা সদর উপজেলায় বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টার নামের একটি ক্লিনিকে ভুল গ্রুপের রক্ত সঞ্চালন করায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মারা যাওয়া রোগীর নাম লামিয়া আক্তার। এ ঘটনায় তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় লামিয়া আক্তার মারা যান। তবে নবজাতক সুস্থ আছে বলে জানা গেছে। ওই নারীর মৃত্যুর পরপরই জেলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার এলাকায় অবস্থিত ওই ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভ চলে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মারা যাওয়া প্রসূতির স্বজনেরা জানান, লামিয়া আক্তার ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবহাওয়া অফিস রোড এলাকার মো. শরীফের স্ত্রী। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাঁকে গত বুধবার বিকেলে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারে ভর্তি করেন তাঁর স্বজনেরা। পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি পুত্রসন্তান জন্ম দেন।
স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীর স্বজনদের ‘বি’ পজিটিভ রক্ত জোগাড় করতে বলেন। কিন্তু রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ। অস্ত্রোপচারের পর লামিয়ার শরীরে ‘বি’ পজিটিভ রক্ত সঞ্চালন করেন চিকিৎসক। এর কিছুক্ষণ পরই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। তাঁকে সেখানে নেওয়ার চার দিন পর গতকাল সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান লামিয়া।
এদিকে ভুল গ্রুপের রক্ত সঞ্চালনের কারণে রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে লামিয়ার স্বজনেরা বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা ক্লিনিকের মালিক, চিকিৎসক ও নার্সদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসকেরা সেখান থেকে সটকে পড়েন।
বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারের মালিক মো. সাদ্দাম হোসেন আজ মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এটা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জটিলতা। সেখানে রোগীকে ৭-৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। সেখানেও তো ভুল হতে পারে। আমাদের এখানে যদি ভুল হতো, তাহলে ওই রোগী সঙ্গে সঙ্গে মারা যেতেন। চার দিন পর্যন্ত রোগীর বেঁচে থাকার কথা নয়। রোগী তো রক্ত দেওয়ার চার দিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন।’
বিক্ষোভের খবর পেয়ে গতকাল রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।