ভোলার চরফ্যাশনে মধ্য আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওই নারী (সহকারী শিক্ষক) গত ২৮ জানুয়ারি জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি মধ্য আলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ২০২৩ সালে যোগদান করেন। তখন সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকলেও অপর সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের হাতে ছিল বিদ্যালয়ের সব কর্তৃত্ব। পরে প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলমের যোগদানের পর সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর কর্তৃত্ব হারান। তখন থেকেই সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের অশ্লীল কথাবার্তা, আচার-ব্যবহারে অতিষ্ট হন তিনিসহ অন্য শিক্ষকেরা। প্রধান শিক্ষক না হওয়া সত্ত্বেও সবকিছুতে খবরদারি, তদারকি ও বিভিন্ন অযৌক্তিক আদেশ দেওয়া শুরু করেন সাইফুল ইসলাম। সহকারী শিক্ষকদের প্রতি তাঁর কয়েকটি অনৈতিক দাবি হলো—প্রধান শিক্ষকের কথা শোনা যাবে না। কথা বললে ফুটবলের মতো লাথি মেরে তিনতলা থেকে ফেলে দেবেন বলে হুমকি দেন এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন। মো. সাইফুল ইসলামের বাড়ি স্কুলের কাছে। তাঁর মনমতো না হলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য সহকারী শিক্ষকদের হুমকি-ধমকি দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই নারী শিক্ষক ২০২৪ সালের ১১ অক্টোবর মাতৃত্বকালীন ছুটির পর মেডিকেল ছুটি কাটিয়ে যোগদান করার পর সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে তাঁকে ধমকাতে থাকেন—কেন তাঁর সম্মতি না নিয়ে মেডিকেল ছুটি নিয়েছেন। এমনকি অশ্লীল ভাষায় বলেন, ‘আপনি (অভিযোগকারী শিক্ষক) প্রধান শিক্ষককে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ছুটি নিয়েছেন।’ কথা বলার একপর্যায়ে অভিযোগকারী শিক্ষকের দিকে তেড়ে এসে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
গত ২১ জানুয়ারি মা সমাবেশ শেষে বিদ্যালয়ের নিচে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতিতে অন্য নারীদের দিয়ে তাঁকে (অভিযোগকারী শিক্ষককে) মারার হুমকি দেন এবং প্রধান শিক্ষককে জড়িয়ে অশ্লীল অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমি স্কুলে যোগদান করার পর থেকে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম আমাকে হেনস্তা করে আসছে। সে প্রকাশ্যে অসৎ উদ্দেশ্যে অরুচিকর কথাবার্তাও বলেছে। আমার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।’
বিদ্যালয়ে কর্মরত একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় আমাদের হেনস্তা করেছেন।’
এ বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল আলম বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম আমাকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সে কর্তৃত্ব করতে চায়। সে তার এলাকার রাজনৈতিক প্রভাব খাটায়। এমনকি সহকারী শিক্ষিকাকে (অভিযোগকারী) বিভিন্ন সময়ে হেনস্তা করেছে।’
চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সহকারী শিক্ষক খালেদা আক্তার একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত চলমান রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পাঠিয়েছি।’