পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে নদ-নদীর পানির উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট বেড়ে উপজেলার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ পার করছে মানবেতর জীবন।
উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। ফলে যে কোনো সময় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই পায়রা সহ সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে সাগর উত্তাল থাকায় পর্যটকদের নিরাপদে রাখতে সৈকত এলাকায় মাইকিং করছে টুরিস্ট পুলিশ।
লালুয়া ইউপির চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই মৌসুমে আমার ইউনিয়নের মানুষের কষ্টের শেষ নেই। সিডর এবং আইলার সময় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ এখনো সংস্কার না হওয়ায় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে ইউনিয়নের চর-চান্দুপাড়া, বুড়োজালিয়া, মুন্সিপাড়া, মঞ্জুপাড়া, নাওয়াপাড়া, চাড়িপাড়া, বানাতিপাড়া, পশুরবুনিয়া ও হাসনাপাড়া গ্রামে পানি প্রবেশ করে মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ সময় তাদের বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে হয়। এ ব্যাপারে একাধিকবার মানববন্ধনসহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।’
কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু মাছ ধরা ট্রলার শিববাড়িয়া নদীর পোতাশ্রয়ে অবস্থান করছে। কিন্তু অনেক ট্রলার এখনো সমুদ্রে অবস্থান করছে।
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, এরই মধ্যে সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ায় সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। তাই মাইকিং করে পর্যটকদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আমাদের টিম সব সময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।