বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কতিপয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সড়ক নির্মাণকাজে চাঁদা দাবি, কাজ বন্ধ করে দেওয়া ও ক্যাম্পাসে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন একজন ঠিকাদার। এ বি এম আওলাদ হোসেন মনু (৫৮) নামের ওই ঠিকাদারকে গতকাল রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিলে তাঁকে পুলিশ উদ্ধার করে। ৫৮ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণকাজের ভাগ চাওয়া নিয়ে ববি ক্যাম্পাস ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন ঠিকাদার আওলাদ। তিনি জীবনের এই বয়সে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু জানান, তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার এবং নগর বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় বিপথগামী ছাত্রদল নেতা-কর্মী ১ মার্চ ক্যাম্পাসে চলমান ৫৮ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে চাঁদা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা হচ্ছেন ববি ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ হোসেন শান্ত, ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব ও সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ। তাঁরা নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ার অজুহাত দেখালেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজের নির্মাণসামগ্রী যে মানসম্পন্ন, তার সার্টিফিকেট দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করতে চাইলেও ছাত্রদলের চাপে তা পারছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওলাদ হোসেন মনু বিমানবন্দর থানায় ছাত্রদল কর্মীদের নামে অভিযোগ দেন।
ঠিকাদার আওলাদ বলেন, ‘গতকাল বিকেলে কাজ শুরু করার জন্য করণীয় জানতে উপাচার্যের কার্যালয়ে যাই। তিনি আমাকে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ববির প্রধান ফটক দিয়ে যাওয়ার পথে ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব তার সহযোগীদের নিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে আসে। আমি প্রাণভয়ে দৌড়ে উপাচার্যের পাশের কক্ষে লুকালে সেখানে গিয়েও আক্রমণের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আমার দায়ের করা অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম উদ্ধার করে ক্যাম্পাস অতিক্রম করে দেন।’
ঠিকাদার আওলাদ জানান, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এই চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা করে সরকারি কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
যদিও গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল কর্মী আজমাইন সাকিব জানান, ক্যাম্পাসে সড়ক নির্মাণের ঢালাই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ জন্য কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা উপাচার্যকে বলেছেন, নিম্নমানের পাথর পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীকে যে ঠিকাদার হুমকি দিয়েছেন, এহেন অপরাধের বিচার করতে হবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন শান্ত জানান, তিনি শুনেছেন, গতকাল সাধারণ ছাত্ররা ঠিকাদার আওলাদকে ধাওয়া দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রফিকও একই কথা বলেছেন। তবে ধাওয়ার ঘটনায় ছাত্রদল জড়িত নয়। তিনি বলেন, ‘আওলাদ ওই কাজের ঠিকাদার না। অন্যের কাজ নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে করেন বিধায় বাধা দিয়েছি। আওলাদ ববির উপপ্রধান প্রকৌশলীর যোগসাজশে কাজ বাগিয়ে নেন।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘আমি চাঁদা দাবির এমন অভিযোগ শুনেছি। ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করেন। তিনি কি প্রমাণ দিতে পারবেন যে ছাত্রদলের ছেলেরা চাঁদা চেয়েছে। আমি ছাত্রদলের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, এ বিষয়ে কিছুই জানে না।’
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তৌফিক আলম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক নির্মাণকাজ আলাপ-আলোচনা করে শুরুর চেষ্টা করছেন তিনি। কাজের নির্মাণসামগ্রী একটি ভিজিল্যান্স টিম পরীক্ষা করে দেখেছে। তাতে মান অনেক ভালো পাওয়া গেছে। কাজ বন্ধ রাখার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।