বরিশালের মুলাদীতে পারভেজ হাওলাদার (৩৫) নামের এক যুবলীগ কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাজিরচর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তিন-চার দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পারভেজ হাওলাদার কাজিরচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরচর গ্রামের আব্দুর রহিম হাওলাদারের ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।
থানা-পুলিশ জানায়, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ায় পারভেজ হাওলাদার কাজিরচর গ্রামে নিজেদের পাকা ঘরে একা বাস করতেন। তাঁর মা হোসনেয়ারা বেগম তিন-চার দিন ধরে ছেলেকে মোবাইল ফোনে না পেয়ে আজ সকালে ওই বাড়িতে খুঁজতে যান। পরে ঘরের ভেতর থেকে গন্ধ পেয়ে দরজা ভেঙে ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পারভেজের মা হোসনেয়ারা বেগম জানান, পারভেজ তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কাজিরচরের পাটোয়ারি কান্দি গোঁজা এলাকায় থাকতেন। কয়েক মাস আগে বিরোধের জেরে পারভেজের স্ত্রী মেয়েদের নিয়ে তাঁর বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে পারভেজ কিছুদিন ধরে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। প্রায় এক মাস আগে পারভেজ বাসার কিছু আসবাবপত্র পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে ফোনে ছেলেকে পাচ্ছিলেন না হোসনেয়ারা বেগম। তাই তাঁকে খুঁজতে ওই বাড়িতে যান এবং দরজা ভেঙে ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জিয়াউদ্দীন মনির বলেন, পারভেজ হাওলাদার কাজিরচর ইউনিয়ন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কয়েক মাস ধরে তিনি পারিবারিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন।
মুলাদী থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, বসতঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে ধারণা করা হচ্ছে, তিন-চার দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।