বরিশালে ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা, বিবাহিত এবং অযোগ্য লোকদের স্থান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে ঘোষিত বরিশালে ছাত্রদলের তিনটি ইউনিট কমিটিতে এমন অসংগতি পাওয়া গেছে।
কমিটিতে জেলায় ১২ সদস্যের ও মহানগরে ১৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটির আংশিক ১২৭ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মহানগরের আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক দুজনেই বিবাহিত। আহ্বায়কের বিরুদ্ধে আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে মাথাভারী কমিটি। যার মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন।
গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ছাত্রদলের একাধিক নেতা-কর্মী নতুন কমিটি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ছাত্রদলের এই নেতৃত্ব মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্যর চাপিয়ে দেওয়া কমিটি।
ছাত্রদলের পদবঞ্চিত একটি পক্ষের অভিযোগ, জেলা ও মহানগর কমিটিতে পদধারীরা ছাত্রত্ব শেষ করেছেন অনেক বছর আগে। মহানগরের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তানজিল বিবাহিত। আহ্বায়ক তাসনিম ঢাকা পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন। ২০০৯ সালের ৭ জুলাই ঢাকা পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এরপরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের ১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে এবং ৪৫টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এনামুল হাসান তাসনিমও ছিলেন।
তবে বিবাহিত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নগর আহ্বায়ক তাসনিম বলেন, তিনি বরিশাল পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র ছিলেন। ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ঢাকা পলিটেকনিক কলেজে স্থানান্তর হন। তবে কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। ওই সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি ও নামের ব্যক্তি তিনি নন। পদ নিয়ে যাঁরা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাঁরা এসব অপপ্রচার করছেন। আওয়ামী লীগবিরোধী ১৭ বছরের আন্দোলনে ২০টি মামলার আসামি ও একাধিকবার কারাগারে গিয়ে দলের জন্য তাঁর ত্যাগের পরীক্ষা দিয়েছেন। তাসনিমের দাবি, ২০০৯ সালে তিনি বরিশাল নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত বছর ৬ ডিসেম্বর কাউন্সিলদের প্রত্যক্ষ ভোটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই কাউন্সিলের ভোটার ছিলেন ২৪০ জন। গত শনিবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির আংশিক ১২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিটিতে সহসভাপতি রয়েছেন ২৮ জন, ৩৪ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৬ জন সহসাংগঠনিক সম্পাদক। মাথাভারী এ কমিটি নিয়ে নানা কথা উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্র জানান, ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পাওয়া অনেকে ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ববি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শান্ত ইসলাম আরিফ বলেন, ‘কাউন্সিলের ভোটে আমরা সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা যেভাবে কমিটি সাজিয়েছিলাম, সেটির ৮০ ভাগ পরিবর্তন হয়েছে। আমরা যারা ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তাদের চেয়ে ভোটে হারা কর্মীরা বেশি সুযোগ পেয়েছেন। ১২৭ জনের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মীও আছে বলে অকপটে স্বীকার করেন শান্ত বলেন, টিম লিডাররা এসব করেছেন। তাঁরা এখন ফোন ধরেন না।’ তিনি আরও বলেন, কমিটিতে থাকা অসংগতিগুলো কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদককে অবহিত করা হবে।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ছাত্রদলের কমিটি শতভাগ সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। সবাইকে তো খুশি করতে পারবে না দল। যতটা পারা যায় সমন্বয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগে সম্পৃক্ততা আছে এমন কেউ কমিটিতে আছে প্রমাণ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য সব অভিযোগও দেখা হবে। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদের কোনো সদস্য এ কমিটিতে প্রভাব খাটিয়েছে—এমন তথ্য ভুল বলে তিনি মনে করেন।