বরিশালের বাবুগঞ্জে সায়েম (২৭) নামের এক কাভার্ড ভ্যানচালককে সাপে কাটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে। কোনো রকমে বাড়ি পৌঁছে বিষয়টি জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নেন। সেখানে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও শেষরক্ষা হয়নি! শুক্রবার সকালে সায়েমকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু আশা ছাড়তে চায়নি পরিবার! অলৌকিভাবে প্রাণ ফেরার আশায় বিভিন্নজনের পরামর্শে দিনভর তাঁকে ঘিরে চলে ঝাড়ফুঁক। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে সন্ধ্যায় করা হয় দাফন!
নিহত সায়েম উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামের সৈয়দ হাওলাদারের ছেলে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে সায়েমকে দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি খাল পার হওয়ার সময় সায়েমকে সাপে কাটে। বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানানোর একপর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে রাত ১২টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেন। পরপর দুবার অ্যান্টিভেনম দেওয়া হলেও তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। পরে সকালে চিকিৎসকেরা সায়েমকে মৃত ঘোষণা করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
চাঁদপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ী দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিকিৎসকেরা সায়েমের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও তাঁর পরিবার কুসংস্কারে বিশ্বাস করে ওঝা ও সাপুড়ে দিয়ে সারা দিন ঝাড়ফুঁক করেছিলেন। পরে তাঁদের বোঝানোর পরে দাফনে রাজি হন এবং রাতে দাফন করা হয়।
নিহত সায়েমের আত্মীয় মো. জুয়েল হোসেন জানান, গতকাল রাতে কাজ শেষে কাভার্ড ভ্যান পার্কিং করে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় সায়েমকে সাপে কাটে। এরপর তিনি কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছে বিষয়টি বাড়ির লোকজনকে জানান।
জুয়েল হোসেন আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে ফিরে অলৌকিকভাবে সায়েম আবার জীবিত হতে পারেন– এ বিশ্বাস থেকে তাঁকে দাফন না করে বাড়ির উঠানে রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক দেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যর্থ হয়ে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।