বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক সপ্তাহ পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বরগুনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলিম।
নিহতরা হলেন ইতি রানী (৩৪), তাঁর মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)। ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে যাতায়াতকারী ব্যক্তি অথবা ইতি রানীর কোনো সহকর্মী অজ্ঞাত কারণে তাঁর দুই কন্যা ও তাঁকে হত্যা করে কক্ষের দরজা বন্ধ রেখে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে পারে।
ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেছিল, ইতি রানী দুই সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ৩ জুন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।
তবে শুরু থেকেই আত্মহত্যা হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন নিহতের স্বজনেরা। ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস দাবি করে আসছেন, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগ করেন, মামলা দায়ের করতে গিয়ে তিনি নানা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার রাতে থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরদিন আদালতে গেলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে পুলিশ মামলা নিতে সম্মত হলেও তাঁর সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমাকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করতে হয়েছে। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক।’
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলিম বলেন, ‘দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলাটি রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিল। বর্তমানে নতুন মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’