টানা ভারী বর্ষণ, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়া ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কথা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, ১৫ জুলাই (বুধবার) পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পাশাপাশি বন্যা ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় জেলার সাতটি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ৬ জুলাই টানা ভারী বর্ষণ, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে জেলা প্রশাসন প্রথম দফায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরে বৈরী আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় সেই মেয়াদ আরও বাড়িয়ে ১২ জুলাই করা হয়। পরে আজ মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ জুলাই করা হলো।