বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছেন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
এর আগে আজ ভোরে বাগেরহাট সদর উপজেলার পিসি ডেমা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাগেরহাট আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক এলাকার শেখ আবু দাউদের ছেলে শেখ মুরাদ (৪১) ও তাঁর ভাই আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯), সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মৃত মোকসুদ আলীর ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৪৮) এবং একই এলাকার মো. এসকেন্দার শেখের ছেলে শিপন শেখ (২৮)।
এসপি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘণ্টার মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। হত্যার নেতৃত্বদানকারী শেখ মুরাদ হত্যার শিকার আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্তর পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। তাঁরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ঘটনার দিনও তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে চরম মতভেদ তৈরি হয়েছিল। এই মতভেদের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন আসামিরা। আসামিদের আদালতে সোপর্দের পরে রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তদন্তে হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।
এসপি আরও বলেন, হত্যার সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় হত্যার সঙ্গে পাঁচজন জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা মামলা রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।