বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র সরকারি মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে ৫২টি অনুমোদিত পদের ৪২টিই শূন্য। সবচেয়ে বড় সংকট হলো খামারটি প্রতিষ্ঠার ৪২ বছরেও ভেটেরিনারি সার্জনের কোনো পদ সৃষ্টি হয়নি। এতে খামারের মহিষের স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ফকিরহাটের পিলজংগ এলাকায় ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের মহিষের জাত উন্নয়ন, বংশবিস্তার এবং দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে খামারটি গড়ে তোলা হয়। ৯৫ একরের এ খামারে বর্তমানে রয়েছে প্রায় ২৮০টি মহিষ। এর মধ্যে খামারের ৪৪টি মহিষ প্রতিদিন প্রায় ১৩০ লিটার দুধ দিচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খামার থেকে ১০১ খামারির মধ্যে ১৪১টি মহিষের বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ভারত থেকে উন্নত মুররাহ জাতের মহিষও খামারে আনা হয়েছে।
খামার সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত ৫২টি রাজস্ব পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ১০ জন। বদলি, অবসরসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় ২২ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি থেকেই গেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে খামারে ভেটেরিনারি সার্জনের কোনো পদ নেই। ফলে মহিষ অসুস্থ হলে বা জরুরি পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসা দিতে হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবরে মাঠে চরানো শেষে কয়েকটি মহিষ হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। পরে একে একে ২০টি মহিষ মারা যায়। খামার কর্তৃপক্ষের হিসাবে মৃত মহিষগুলোর মূল্য ছিল প্রায় অর্ধকোটি টাকা। প্রাথমিক তদন্তে প্রাকৃতিকভাবে নতুন গজানো ঘাসে বিষক্রিয়ায় মহিষের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছিল। এত বড় ক্ষতির পরও খামারে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি বা স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় জনবলের নিয়োগ করা না হলে খামারের উন্নত জাতের মহিষের স্বাস্থ্য ও প্রজনন কার্যক্রম আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক শেখ আল মামুন বলেন, খামারে একজন ভেটেরিনারি সার্জনসহ প্রয়োজনীয় জনবল জরুরি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা থাকায় জেনারেটর এবং নিচু ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সীমানাপ্রাচীর সংস্কার ও মাটি ভরাটের প্রয়োজন রয়েছে।
বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেব আলী বলেন, ‘মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক থাকা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃজন বা কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।’