হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

বাগেরহাট হাসপাতালে আগুনে দগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালক, পুড়ল ৮ মোটরসাইকেল

বাগেরহাট প্রতিনিধি

অ্যাম্বুলেন্সের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফরিদ হোসেন নামের এক অ্যাম্বুলেন্সচালক দগ্ধ ও আটটি মোটরসাইকেল ভস্মীভূত হয়েছে। তবে হাসপাতালের রোগী ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের পুরোনো বিল্ডিংয়ের প্রবেশপথে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. সাইদুজ্জামান।

অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী নেওয়ার জন্য হাসপাতাল চত্বরে আসে। রোগী ওঠার আগেই হঠাৎ শব্দ হয় এবং আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে পাশে থাকা আটটি মোটরসাইকেল পুড়ে যায়। এ সময় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সিলিন্ডারের গ্যাস লিক হয়েই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আগুন লেগে আটটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। দগ্ধ অ্যাম্বুলেন্সচালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগুনের ধোঁয়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রবেশ করলেও রোগী ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন আ স ম মাহাবুবুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই হাসপাতালের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ফলে মূল হাসপাতাল ভবনে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আহত অ্যাম্বুলেন্সচালককে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এমপি শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তের পর সঠিক কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রাখার স্থান ও অগ্নিনিরাপত্তা-ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।