হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

কাজ না করেই অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের শাস্তির দাবি

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাট সদর উপজেলার পূর্ব সায়েড়া লক্ষ্মীখালী সেতুর নির্মাণকাজ না করেই অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আজ মঙ্গলবার দুপুর বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাওলাদার রফিকুল ইসলাম নামে একজন বলেন, গত ১২ এপ্রিল পূর্ব সায়েড়া লক্ষ্মীখালী সেতুর নির্মাণকাজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। তবে এখনো সেতুর নির্মাণকাজ দৃশ্যমান নয়। কাজ না করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫০ লাখ টাকা বিল নিয়ে গেছে। বিলদাতা এলজিইডির প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে রফিকুল বলেন, সেতু নির্মাণ করে দ্রুত জনভোগান্তি কমাতে হবে। অন্যথায় এলজিইডি কার্যালয় ঘেরাও করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এ সময় সুমন নামের এক ব্যক্তি বলেন, কোনো কাজ না করেই ৫০ লাখ টাকা নিয়ে গেলেন ঠিকাদার। এতে আমাদের ভোগান্তিতে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকৌশলীরা কার্যালয়ে বসে এসির বাতাস খাচ্ছেন।

আবুল শেখ নামের স্থানীয় এক বৃদ্ধ বলেন, ৫০ লাখ টাকা নিয়ে কেন কাজ ফেলে রাখবে? অতি দ্রুত সেতু নির্মাণ করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে হবে।

জেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষদিকে পূর্ব সায়েড়া-লক্ষ্মীখালী খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য নিসিথ বসু নামের একটি ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয় এলজিইডি। ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ করেননি ঠিকাদার। যদিও ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকা বিল দিয়েছে এলজিইডি।

জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, যেটুকু কাজ করেছে সেটুকুর বিল দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের জন্য ঠিকাদারকে বলা হলেও তিনি করেননি। গত ২২ জুলাই ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলের জন্য প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ কার্যাদেশ বাতিল হবে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এলজিইডি কার্যালয়ের নথিতে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোন নম্বরে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।