হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

বাগেরহাটের চিতলমারী: অবৈধ ড্রেজার-বাল্কহেডে বালু তোলার মচ্ছব

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 

অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে বাগেরহাটের চিতলমারীর খড়মখালী গ্রামে বধ্যভূমির পেছনে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে অবৈধ ড্রেজার ও রুট পারমিটবিহীন বাল্কহেড দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের জরিমানার পরেও উপজেলার ১০ থেকে ১২ জন চিহ্নিত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন।

বেপরোয়াভাবে বালু তোলায় এতে চিতলমারীর ভূমি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এ ছাড়া একটি ছোট খাল দিয়ে বালুবাহী বড় বাল্কহেড যাতায়াত করায় ঢেউয়ের তোড়ে দুটি পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইতিমধ্যে রুট পারমিটহীন অবৈধ বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে ভূগর্ভের বালু তোলা বন্ধের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী। তাঁরা অবৈধ বালু কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় বাগেরহাট জেলা প্রশাসককে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেছে।

জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি ডেজার মেশিন রয়েছে। এসব মেশিন দিয়ে উপজেলার খড়মখালী, পাঙ্গাশিয়া, নালুয়া, পিঁপড়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামে বেপরোয়াভাবে ভূগর্ভের বালু তোলা হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, চিতলমারী সদর বাজারের পাশে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নবীর সরদার ও কামাল মেম্বার রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে চরকুড়াতলা এলাকার বিভিন্ন কৃষিজমি ও জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন করছেন। ছোট্ট খালে তাঁদের বড় বাল্কহেড যাওয়া-আসা করায় ঢেউয়ের তোড়ে বাবুগঞ্জ বাজার থেকে চিতলমারী বাজার পর্যন্ত পাকা দুটি গ্রামীণ সড়ক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে রাস্তা দুটির বিভিন্ন জায়গা ভেঙে খালে বিলীন হয়েছে। বাল্কহেডের ধাক্কায় বোয়ালিয়া-খলিশাখালী লোহার পুলটি হেলে পড়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে শেরেবাংলা কলেজ জামে মসজিদটি।

প্রশাসনের কাছে অভিযোগকারী বাশার খান বলেন, ‘লাইসেন্স ও রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বাল্কহেড ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গ্রামীণ পাকা সড়ক এবং মসজিদ রক্ষার জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। যত্রতত্র এই বালু উত্তোলন প্রতিরোধ করতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

জানতে চাইলে নবীর সরদার দাবি করেন, বাল্কহেডে বালু পরিবহন অবৈধ নয়। তাঁর ট্রলার ও বাল্কহেডের রুট পারমিট এবং লাইসেন্স আছে। কামাল মেম্বার বলেন, ‘আমার ট্রলার নষ্ট হয়েছে। আমি এখন গোপালগঞ্জ যাচ্ছি। পরে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।’

গতকাল শুক্রবার দুপুরে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ভূগর্ভের বালু বা মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এটি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’