আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক আসছে। মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স। যদি কোনো নেতা এর পেছনে থেকে থাকেন তাঁকেও সতর্ক করছি।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় এমপি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবার একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বর্তমান সরকার গুম ও ক্রস ফায়ার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গেল ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে, মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছিল ক্রসফায়ার। বিএনপি–জামায়াত করার কারণে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছে। যার ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে বাদী হয়েছিল পুলিশ। আমরা এই সংস্কৃতি বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’
বাগেরহাটের মোংলার নিখোঁজ মিরাজ শেখকে গুম করা নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আপনাদের এখানে একটা কেস স্টাডি এসেছে, মিরাজ শেখের কেস স্টাডিটা। একটা গুমের অভিযোগ এসেছে। এটাও আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ও গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকাজ অব্যাহত রেখেছি। আমরা চাই না মিরাজ শেষের পরিবার ন্যায় বিচারবঞ্চিত হোক।’
বাগেরহাটে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কয়েকটা হত্যা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাঁকে আইনের আওতায় আনার জন্য। তিনি যত শক্তিশালী হোক না কেন, বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতাও যদি তাঁকে রক্ষার চেষ্টা করেন তাঁর ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবেন। খুন করে বাইরে ঘুরে বেড়াবেন, আর জনগণ বলবে খুন করলেও কিছু হয় না। পুলিশের হাত এখনো এত দুর্বল হয়নি।’
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের এমপি মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি মো. আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, জেলা সিভিল সার্জন আসম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।