হোম > সারা দেশ > বাগেরহাট

পর্যটকবাহী জাহাজে নয়, জেলেদের নৌকায় দস্যুদের হামলাচেষ্টা—দাবি বন বিভাগের

বাগেরহাট প্রতিনিধি

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে নয়, জেলেদের নৌকা ঘিরে দস্যুরা হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে বন বিভাগ। তবে এর আগে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, একদল দস্যু ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে কটকা নদীতে অবস্থানরত পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে বনরক্ষীরা গুলি ছুড়লে তারা সাগরের দিকে পালিয়ে যায়।

গতকাল শনিবার রাতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা এলাকার কাদেরের খালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বন বিভাগ জানায়, কাদেরের খাল এলাকায় পৌঁছানোর পর দস্যুরা জেলেদের নৌকার পিছু নেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে এক জেলে বনকর্মীদের খবর দেন। পরে বনরক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেন। তাঁদের তৎপরতায় জেলেরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আজ রোববার বিকেলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বৈধ পাস-পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নৌকার পিছু নিয়েছিল দস্যুরা। তারা জেলেদের জিম্মি করার চেষ্টা করলে এক জেলে কটকা বন অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পরে দস্যুরা পালিয়ে যায়।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যটকবাহী নৌযানে দস্যুদের হামলার যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি বলেন, কোনো পর্যটকবাহী নৌযানে দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে দর্শনার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

এর আগে, কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভির হাসান ইমরান জানিয়েছিলেন, রাতের দিকে একদল দস্যু ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলারে করে কটকা নদীতে অবস্থানরত পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে এগিয়ে আসছিল। বুঝতে পেরে কটকার মোহনায় থাকা জেলেরা মোবাইল ফোনে বনরক্ষীদের খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত টহল বোট নিয়ে কটকা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থান নেন বনরক্ষীরা। এ সময় দস্যুরা পর্যটকবাহী জাহাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বনরক্ষীরা তাদের লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে দস্যুরা ট্রলারের দিক পরিবর্তন করে দ্রুত সাগরের দিকে পালিয়ে যায়।