শেরপুর সদরে ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের দায়ে মাসুদ মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট মো. বেলাল হোসেনকে (৪৮) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আজ দুপুরে সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভূঁইয়া।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শেরপুর-১ (শেরপুর সদর) আসনের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের ৯৮ নম্বর নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল করে ১৫ থেকে ১৬ জন বিএনপির নেতা-কর্মী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া শুরু করেন। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারা ২৬টি ব্যালট পেপার নির্ধারিত বক্সে ফেলেন ও ব্যালট নং-০২৯৯৯০১-০৩০০০০০ নম্বর যুক্ত গণভোট ও প্রতীক-সংবলিত দুটি ব্যালট পেপারের বই নিয়ে যায়।
পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিকল্পনা কমিশনের সহকারী সচিব শিবরাজ চৌধুরী, সেনাবাহিনীর টহল টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় ছিনতাই হওয়া ব্যালট পেপার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ছিনিয়ে নেওয়া দুটি ব্যালট পেপারের বই ও বক্সে রাখা ২৬টি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়।
ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক মাসুদ মিয়াকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর একই কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট স্থানীয় হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বেলাল হোসেনকে (৪৮) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে একই আসনের দিঘারপাড় কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দুজন এজেন্ট হট্টগোল শুরু করায় তাঁদের আটক করে রাখা হয়। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা উদয় সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আটক থাকবেন বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে শেরপুর-১ (সদর) ও শেরপুর-২ আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ স্থগিত রয়েছে।