গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পুকুরের এসব মাছ গরিবদের মধ্যে বিতরণের নিয়ম থাকলেও নিজেরাই ভাগবাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে এসব মাছ ধরান ইউএনও ইফফাত জাহান তুলি। পরে সন্ধ্যায় এসব মাছ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেন তিনি।
পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) বরাদ্দের অর্থে প্রতিবছর এই পুকুরে মাছ অবমুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাছ ধরার পর তা গরিব, দুঃখী, দুস্থ, অসহায় মানুষ ও এতিমখানায় বিতরণের কথা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এবার পুকুরের মাছের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। গরিব, দুঃখী, দুস্থ, অসহায় মানুষ কিংবা এতিমখানায় মাছ বিতরণ করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের পাহারায় ভ্যানে করে মাছভর্তি বস্তা ইউএনওর সরকারি বাসভবনের সামনে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মাছ ভাগ করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, ইউএনওর নির্দেশেই পরিষদের পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়। পরে এসব মাছ কর্মকর্তা ও স্টাফ মিলিয়ে মোট ৩২ জনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও নিজেই এসব মাছ ভাগাভাগি করে দেন বলেও জানান ওই কর্মচারী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ইফফাত জাহান তুলি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, দুই বছর ধরে পুকুরের মাছ তোলা হয়নি। মাছ বড় হয়েছে কি না তা দেখার জন্য কিছু মাছ তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে যখন মাছ উত্তোলন করা হবে, তখন গরিব-দুঃখীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।