পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) গণ-ইফতারের আয়োজন করেছে। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠ ও শহীদ মিনার চত্বরে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়।
তবে গণ-ইফতারে শতাধিক শিক্ষার্থী খাবার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপর দিকে বিশাল আয়োজনে খরচের উৎস সম্পর্কে জানেন না রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির।
জানতে চাইলে জিএস আম্মার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আজকের আয়োজনের ফান্ড কোথায় থেকে আসছে সেটা আমাদের ভিপি ব্যবস্থা করেছেন। এটা রাকসুর ফান্ড থেকে করা হচ্ছে না। ভিপি আপনাদের কথা দিয়েছিল, তিনি কথা রেখেছেন। এক জায়গা থেকে ভিপির মাধ্যমেই এই ফান্ড এসেছে।’
জানা গেছে, প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য গণ-ইফতারের আয়োজন করা হয়। এতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য গরুর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি ও খেজুর, আর ‘অমুসলিম’ শিক্ষার্থীদের জন্য মুরগির মাংস দিয়ে বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা হল সংসদ থেকে খাবারের টোকেন সংগ্রহ করেন।
শিক্ষার্থীরা টোকেন নিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজির হন। আসর নামাজের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শতাধিক শিক্ষার্থী খাবার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
খাবার না পাওয়া শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ গ্রুপসহ বিভিন্ন জায়গা অভিযোগ করে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী। গতকাল তড়িঘড়ি করে এসে টোকেন নিয়েছি। আজ সারা দিন রোজা থেকে সন্ধ্যায় ইফতার করতে গিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকার পর রাকসুর প্রতিনিধিরা জানাল খাবার শেষ।
‘রাকসুর প্রতিনিধিদের জানা উচিত ইফতার ফুটেজ খাওয়ার জায়গা না। সারা দিন রোজা থেকে ইফতারে এমন অবস্থা অবর্ণনীয়। তার ওপর রাকসু নিয়ে কোনো সমালোচনা করা যায় না। কিছু বললেই বাম, রাম শাহবাগী ট্যাগ দেয়।’
আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে টোকেনের ব্যবস্থা করেছে। এতে তো কতজন লোক হবে তার একটা ধারণা পাওয়ার কথা। কিন্তু এমন অব্যবস্থাপনার ধিক্কার জানাই।’
এ বিষয়ে রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘আমাদের ১৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের জন্য আজকের আয়োজন ছিল, তবে সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। আজকে আমাদের ম্যানেজমেন্টে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
‘কারণ, আমাদের যারা দায়িত্বে ছিল তারা ওইভাবে টোকেন চেক করে ভেতরে প্রবেশ করাননি। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টোকেন ছাড়াই খাবার নিতে এসেছিল। যার ফলে মেয়েরা সকলে খাবার পেলেও ছেলে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন খাবার না পেয়ে চলে গেছে।’
টাকার উৎস বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা ঠিক বলতে পারব না। আমাদের ভিপি সম্পূর্ণ এটার দায়িত্বে ছিল। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন।’
এদিকে টাকার উৎস বিষয়ে কথা বলতে মোবাইল ফোনে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো সাড়া দেননি।