চোখে আলো নেই বহু বছর। তবু ভোটের দিন সকালেই বেরিয়ে পড়েছেন জোলেখা খাতুন। বয়স ষাট পেরিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের আগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। জীবনভর অন্ধকারে থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের উৎসবে যোগ দিতে ভোটকেন্দ্রে ছুটে এসেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাড্ডায় বেরাইদে এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রের নিচতলায় একা দাঁড়িয়ে ছিলেন অন্ধ জোলেখা। একা এসেছেন কিনা —জিজ্ঞেস করায় খুঁজতে লাগলেন মাসুদাকে। জোলেখার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মাসুদা। মাসুদাই তাঁর সহচর। কিছুক্ষণ পর পাওয়া গেল মাসুদাকে। মাসুদা জানান, ভোটকক্ষ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিলেন।
পরে খোঁজ নিয়ে জোলেখা বেগমকে দোতলায় তাঁর নির্ধারিত ভোটকক্ষে নিয়ে যান মাসুদা। জোলেখার জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠাও ছিল কষ্টকর। এক ধাপ এক ধাপ করে, হাত ধরে, ধীরে ধীরে ওপরে ওঠেন।
ওপরে উঠে সোজা ভোটকক্ষে চলে যান মাসুদা ও জোলেখা। কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে কথা বলে দু’জন গোপন বুথে গিয়ে ভোট দেন।
পশ্চিম হারালদিয়া এলাকার বাসিন্দা জোলেখা খাতুন পরিবার প্রসঙ্গে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কেউ নাই গো মা, কিছু নাই। বাবা ছোটকালে মারা গেছে, বাবার চেহারাও মনে নাই। মা মারা গেছে যখন আমার বয়স ৪ বছর। বিয়েও করি নাই।’
নিজের সংসার হয়নি। জীবনের দীর্ঘ পথ জোলেখা কাটিয়েছেন একাকিত্বে। এখন থাকেন ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে। দারিদ্র্য, শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর বয়স—সব মিলিয়ে চলাফেরা তাঁর জন্য কষ্টকর। তবু ভোটের দিনে থেমে থাকেননি। চোখের আলো হারিয়ে ফেলা এই বৃদ্ধা জানান, প্রায় প্রত্যেকটি নির্বাচনেই তিনি ভোট দিয়েছেন। ভোটের দিন তিনি কেন্দ্রে এসে ভোট দেন। আর তাঁর বেশির ভাগ ভোটেই সাক্ষী হয়ে থাকেন মাসুদা।