ভোট উৎসবে মেতেছে পুরো দেশ। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে ভোট দিতে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ফিরছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। নগরীর বাসস্ট্যান্ড ও রেলওয়ে স্টেশনে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়েছে। যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ। সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো ২০০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা হাঁকাচ্ছে। ভাড়া বেশি ও ভোগান্তি সত্ত্বেও বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি যাত্রীরা। তাঁরা জানান, ভোটের মাধ্যমে দেশে শান্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা তাঁদের।
ট্রেনের ছাদে, ইঞ্জিনের সামনে, বাস, ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষ। লোকজনের অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেকে টিকিট কেটেও সিটে বসতে পারেননি। ট্রেনে করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে এসেছেন আফরোজা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ট্রেনের ভেতর এত মানুষের চাপ, পা ফেলারও জায়গা ছিল না। টিকিট করেও আমার সিট পর্যন্ত যেতে পারিনি। তারপরও অনেক দিন পর বাড়ি আসতে পেরে খুশি। ঈদের মতো আনন্দ লাগছে। পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাব।’
আরেক যাত্রী শুভ কুমার দাস বলেন, ‘এত মানুষ বাড়ি ফিরবে, ভাবতে পারিনি। ট্রেনের এমন কোনো অংশ নেই, যেখানে মানুষের চাপ নেই। যে যার মতো করে ঝুঁকি নিয়ে আসছেন। কারণ একটাই, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক।’
দুপুরে নগরের পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে পা ফেলার জায়গা নেই। বাস, অটোরিকশা, পিকআপ, ট্রাক ও মাহিন্দ্রা করে যে যেভাবে পারছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে বাড়ি ফিরছেন। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।
আরিফ হাসান নামের এক যাত্রী বলেন, ভালুকা থেকে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ বাসভাড়া ৬০ টাকা। এখানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার কমে কেউ আসতে পারছে না। তাও গাদাগাদি করে আসতে হচ্ছে। জীবন যেন জীবন না। এগুলো দেখারও কেউ নেই।
আরেক যাত্রী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘নেত্রকোনার অটোরিকশার ভাড়া এই সময়ে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, কিন্তু নিচ্ছে ৬০০ টাকা। আমরা কোথায় যাব, কার কাছে প্রতিকার চাইব? সুযোগ পেলেই চালকেরা তাদের মনমতো করে ভাড়া নিচ্ছে।’
অটোরিকশার চালক হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘সবাই যেভাবে ভাড়া নিচ্ছে, আমিও সেভাবেই নিচ্ছি। ময়মনসিংহ থেকে সারা দিনে একবার নেত্রকোনা গিয়ে আবার সেখান থেকে আসা অসম্ভব। কারণ, যানজটে গাড়ি একেবারেই ধীরগতিতে চলছে। এতে আমাদের একটু ভাড়া বেশি না নিলে পুষবে কেমনে।’
বাসচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর ২০০ টাকা ভাড়া। আমরা ৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। যাত্রীরা খুশি হয়েই দিচ্ছে।’
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘যাত্রী ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। আমি নিজেও ব্রিজে গিয়ে বিষয়টি তদারকি করেছি। তবে জেলা প্রশাসন থেকে যদি একটু নজরদারি বাড়ানো হতো, তাহলে আরও ভালো হতো।’