সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর কাটাগাঙ্গের ওপর বেইলি সেতুর পাটাতন আবারও ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুনামগঞ্জে আসা যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ।
সরেজমিন দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-ঢাকা আঞ্চলিক এই মহাসড়কের বেইলি সেতুর দুটি পাটাতনের জোড়া খুলে নিচের দিকে দেবে গেছে। নিচের অংশের স্টিলও ভেঙে গেছে। সেতুর উভয় পাড়ে বড় বড় পরিবহনের কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়েছে।
পাবনা থেকে আসা নিজাম উদ্দিন নামের এক শ্রমিক সর্দার বলেন, ‘আমরা ৩৮ জনের একটি টিম ধান কাটার জন্য সুনামগঞ্জে যাচ্ছিলাম। চরম দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।’
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুহেল মিয়া বলেন, ‘চার বছর ধরে দুই দিন পরপর সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়; খুলে যায়। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী সবাইকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কবে যে এ দুর্ভোগ শেষ হবে, কেউ জানে না।’
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘মেরামতের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। কাজ চলছে।’
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জ-পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি-ঢাকা আঞ্চলিক এ মহাসড়কে জগন্নাথপুর উপজেলার ইছগাঁও নামক স্থানে বহমান নলজুর নদীর ওপর (কাটাগাঙ্গ) ২০১২ সালে বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৩ জুন সেতুটির দক্ষিণ অংশের অ্যাপ্রোচের মাটি ধসে গর্তের সৃষ্টি হয়। একই বছরের ১৩ জুলাই আবার মাটি ধসে একই স্থানে দ্বিতীয়বার গর্তের সৃষ্টি হলে অ্যাপ্রোচে অতিরিক্ত স্টিল দিয়ে মেরামতের করা হয়। পরে আবার ২০২২ সালের ১৫ জুলাই সেতুটির উত্তর অংশের অ্যাপ্রোচের মাটি ধসে গর্তের সৃষ্টি হলে অ্যাপ্রোচে অতিরিক্ত স্টিল দিয়ে মেরামত করা হয়। ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট সেতুটি ভেঙে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকডুবির ঘটনায় চালক ও তাঁর সহকারী নিহত হন। ওই সময় এক সপ্তাহ এ সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেতুটির দুই মাথায় টাঙিয়ে দেওয়া হয় সতর্কতা সাইনবোর্ড। ঘোষণা করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। তবুও প্রতিনিয়ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলে ভারী যানবাহন। এতে কয়েক দিন পরপর সেতুটির পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।