হোম > সারা দেশ > পাবনা

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ-গুলিবর্ষণ-অগ্নিসংযোগ, পুলিশসহ আহত অন্তত ২০

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, মিছিলে হামলা, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশসহ ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের রেলগেট থেকে শুরু করে পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় এসব সংঘর্ষ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। এবারের সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন হাবিবুর রহমান।

সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের নির্বাচন পরিচালনার প্রধান কার্যালয় ভাঙচুর ও কার্যালয়ের সামনে কয়েকটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৯টি শটগানের গুলি ও ২ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। দায়িত্ব পালনকালে ইটের আঘাতে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং একজন কনস্টেবল আহত হন। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শহরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কোন্দলের জেরে গত শনিবার ঈদের দিন আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে শহরের ফতেমোহাম্মদপুরে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল রউফ আবদুল তাঁর স্থানীয় প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এর আগে রতন নামে একজনকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এর জেরে ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় ভোরবেলায় নাজিমুদ্দিন স্কুলের পাশে চারটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লোকজনদের মারামারির ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার রাতে শহরের রহিমপুরে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তছনছ করা হয়। গভীররাতে উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল, বিএনপি সদস্য এনাম হোসেন, গুড্ডুসহ চারজনের বাড়ির গেটের সামনে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উভয় পক্ষ একে-অপরকে দোষারোপ করে আসছিল।

এসব পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা, পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌর সভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনের প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বক্তব্য দেন। এরা সকলেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক। অপরদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আরেকটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। এই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলন শেষ করে মকলেছুর রহমান বাবলুর নেতৃত্বে শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলের নেতা-কর্মীরা। ওই মিছিলের ব্যানার লেখা ছিল ‘জাকারিয়া পিন্টু, মেহেদী, জুয়েল ও সোনামনি এবং তাদের বাহিনীর সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল’। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিছিলটি পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু হয়ে থানার সামনে এলে পুলিশ বাধা দেয় সামনে না যাওয়ার জন্য। একই সময় থানার খুব কাছে রেলগেটে জাকারিয়া পিন্টু অনুসারী নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে বিএনপির মিছিলটি রেলগেট ট্রাফিক মোড় ঘুরে ফিরে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় রেলগেট থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এখানে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে রাখা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে ভাঙচুর করে। পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে সেনাসদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

পাবনা-৪ আসনে নির্বাচন পরিচালনা উপজেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ দাবি করেন, তাদের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে প্রতিপক্ষরা গুলি ও হামলা চালায়। হামলায় তিনিসহ উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল ও ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রকিসহ ১৫-২০ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে শ্যামলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন বলেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে দায়িত্ব পালনকালে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা টহলে রয়েছেন এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এলাকা পরিদর্শন করছেন।

কক্সবাজারে ভরপুর পর্যটক, হোটেল-মোটেলে ঠাঁই নেই

নেত্রকোনায় জমির বিরোধে কুপিয়ে জখম, ৫ দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু

বাংলাদেশে তেলের কোনো সংকট নেই: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

শরীয়তপুরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০, অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণ

শেখ হাসিনাসহ সব দণ্ডপ্রাপ্তকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অপরাধ দমনে লালপুরে কাল থেকেই হটলাইন চালু করার নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় ডাকাতি, কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

যাত্রীরা টিকিট কিনতে গিয়ে দেখেছেন অব্যবস্থাপনা, চাঁদাবাজি: জামায়াত আমির

ভোলায় পুকুরে মিলল পিস্তল