হোম > সারা দেশ > ফেনী

‘রাফার আব্বু ওঠো, তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো?’

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামী মো. মোরশেদ হোসেনের নিথর দেহের অপেক্ষায় স্ত্রী রুনা আক্তারের আহাজারি। আজ রোববার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসচাপায় মোরশেদ মারা যান। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘রাফার আব্বু ওঠো, ও রাফার আব্বু ওঠো। তুমি না থাকলে আমাদের কী হইবো? রাফা, আয়ানা আর আমার কী হইবো?’ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বামী মো. মোরশেদ হোসেনের (৪০) নিথর দেহের অপেক্ষায় এভাবেই বুকফাটা আহাজারি করছিলেন রুনা আক্তার।

আজ রোববার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও বাসের সংঘর্ষে সড়কে জটলার সৃষ্টি হয়। সেই জটলার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটি দ্রুতগামী বাস উঠে পড়লে ঘটনাস্থলেই মোরশেদসহ তিনজন নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে নেমে স্ত্রী-সন্তানসহ অন্য যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছিলেন মোরশেদ। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির একটি বাস এসে জটলার ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, ঈদ উদ্‌যাপন শেষে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে কক্সবাজারে সমুদ্র দেখতে রওনা হয়েছিলেন ঢাকার বাংলামোটরের ব্যবসায়ী মোরশেদ হোসেন। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি। পথিমধ্যে ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে তাঁর শেষ যাত্রা। ফেরেন লাশ হয়ে।

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ী মো. মোরশেদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ মোরশেদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গের নেয়। সেই মর্গের দরজার পাশে বসে বারবার স্ত্রী রুনা আক্তারকে আহাজারি করে বলতে শোনা যায়, ‘রাফার আব্বু ওঠো। রাফার কী হইবো, আয়ানার কী হইবো, আমার কী হইবো? তুমি না থাকলে তোমার মা আমাকে ঘর থেকে বের করে দেবে। তুমি তো কিছুই বলে গেলে না।’ তাঁর এই আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন উপস্থিত স্বজন ও উপস্থিত লোকজন।

মোরশেদের স্বজনেরা জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দিতে এবং মেয়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন মোরশেদ। ছোট মেয়েকে সমুদ্র দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই থেকে গেল তাঁর।

জানা গেছে, মোরশেদ হোসেন ঢাকার বাংলামোটর এলাকার ফরহাদ অটো মার্কেটের একজন পরিচিত ব্যবসায়ী এবং ‘মোরশেদ মটরস’-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

মোরশেদের দীর্ঘদিনের বন্ধু মো. সুমন বলেন, ‘এভাবে মোরশেদের চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। তার ছোট দুই মেয়ে আর স্ত্রী কীভাবে বাঁচবে, সেটাই ভাবাচ্ছে এখন। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ফেনীতে এসেছি। মরদেহ নিয়ে ঢাকায় গিয়ে গোসল ও জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ নেওয়া হবে তাঁর রংপুরের হারাগাছ উপজেলার নিজ গ্রামের বাড়িতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

কুড়িগ্রামে শাবলের আঘাতে কৃষক খুন, ছেলে আটক

রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

ঈদের ছুটিতে ​সিলেটে সাদাপাথরে পর্যটকদের ভিড়

নেত্রকোনায় জমির বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ঈদের ছুটিতে গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

হামলায় তছনছ ১৭ বসতঘর, অভিযোগ ছাত্রদল-আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে

প্রয়োজনে বিয়েবাড়ির গয়না বহনে নিরাপত্তা দেবে পুলিশ: ডিবি প্রধান

নওগাঁয় চাঁদা না দেওয়ায় একজনকে হাতুড়িপেটা

গাংনীতে মাদক ও ওষুধ জব্দ করেছে বিজিবি

৩৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল ভারত