‘দেবিদ্বারে ৪ আগস্ট আমার স্বামী শহীদ হয়েছে। আমার সন্তান তার বাবার মুখ দেখতে পায় নাই। এর চেয়ে কষ্টের আর কিছুই হতে পারে না। আমার পাঁচ বছর বয়সের মেয়েটা আজও বসে আছে তার বাবা আসবে ভেবে, কিন্তু সন্তান তো জানে না তার বাবা এই পৃথিবীতে নেই। আমার স্বামী হত্যার বিচার যেন হয়। আমার স্বামী হত্যার বিচার হাসনাত আবদুল্লাহ ভাইয়ের হাত ধরে এই দেবিদ্বারের মাটিতে যেন হয়। যারা আমার সন্তানদের এতিম করেছে, আমাকে বিধবা করেছে, তাদেরকে দেবিদ্বারের মাটিতে ঠাঁই দেবেন না।’
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী, এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে এসব কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দেবিদ্বারে শহীদ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার।
এ সময় হ্যাপী আক্তার উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ সকলে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে হাসনাত ভাইকে জয়যুক্ত করবেন।’
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলি ও চাপাতির আঘাতে শহীদ হন আব্দুর রাজ্জাক রুবেল। তিনি দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
রুবেলের মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী হ্যাপী আক্তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ৩৬ দিন পর (২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর) এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। রুবেলের ইচ্ছানুযায়ী সন্তানের নাম রাখা হয় রাইয়ান।