রাজধানীর রায়েরবাজারে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সিয়াম (১৮) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রেম-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও রক্তমাখা পোশাক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হাজারীবাগ থানায় করা একটি মামলায় যুবকটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করবেন উপকমিশনার (ডিসি)।
গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানা এলাকার রায়েরবাজারে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রাত সোয়া ১০টার দিকে স্বজনেরা বিন্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহত বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন জানান, রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলের সঙ্গে নিচে যায়। কিছুক্ষণ পর বাসার নিচে হইচই শুনে নেমে দেখেন, মেয়েকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়, পরে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, নিহত বিন্তির কাঁধ ও পিঠে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত বিন্তির পরিবার জানায়, রায়েরবাজার হায়দার হোটেলের গলির একটি পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলায় তাঁরা বসবাস করেন। বিন্তি রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেনের দুই সন্তানের মধ্যে বিন্তি ছিল বড়।
হাসপাতালে মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা বেল্লাল হোসেন ও মা নাদিয়া।
নিহত বিন্তির মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে বিন্তি আর তার ভাই নিচে নামে। তরকারি কিনে দিয়ে নাবিল মসজিদে যায়। পরে হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি, আমার মেয়েকে ঘিরে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।’
বিন্তির মা অভিযোগ করেন, ‘সিয়াম নামের ওই তরুণ কয়েক বছর ধরে মোবাইলে বিন্তিকে বিরক্ত করছিল। একদিন আমি তাকে বকাবকি করি। আজ সে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’