ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসনে (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন দলটির ‘বিদ্রোহী’ তথা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন পর এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহ এবং অঞ্চলভিত্তিক ভোট বিভাজনের আশঙ্কায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) সাবেক দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তোজাম্মেল হক তোজা। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন; যা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিএনপি ইতিমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে বেশ কয়েক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার এবং কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সাংগঠনিক পদক্ষেপের পরও মাঠপর্যায়ে বিভক্তি কমেনি। অনেক এলাকায় একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানের চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা ভোট বিভাজনের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
এদিকে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. আবু বকর সিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে শুধু মানিকগঞ্জ-১ আসনেই জামায়াতের দলীয় প্রার্থী রয়েছেন। ফলে জেলার অন্যান্য আসনের জামায়াত নেতা-কর্মীরাও এখানে এসে গণসংযোগ ও ভোট প্রার্থনা করছেন। ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে বিএনপির বিভক্ত ভোট ব্যাংকে ভাগ বসানোর চেষ্টা করছে জামায়াত; এমনটাও মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে বিএনপির ভোট দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বিভক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।