বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনের অদূরে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সান্তাহার ও ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনের মাঝামাঝি বাগবাড়ী নামের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-ঈশ্বরদী-দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসটি বেলা ২টার দিকে সান্তাহার জংশন স্টেশনে বিরতি দেয়। বিরতি শেষে ট্রেনটি গন্তব্যস্থল চিলাহাটির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কিছু সময় পরই বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ছাতিয়ানগ্রাম স্টেশনের দক্ষিণে একটি ব্রিজের সামনে পৌঁছালে বিকট শব্দে বগিগুলো লাইনচ্যুত হতে শুরু করে।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থলে রেললাইনের সংস্কারকাজ চলছিল। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে রেলকর্মীদের পক্ষ থেকে সতর্কসংকেত হিসেবে ‘লাল পতাকা’ টানানো ছিল। তবে ট্রেনের ইঞ্জিন ও ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় চালকের পক্ষে সেই সংকেত দেখা সম্ভব হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ফলে চালক ট্রেনটি না থামিয়ে চালিয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে নারী-শিশুসহ সহস্রাধিক যাত্রী ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বগিগুলো লাইনচ্যুত হওয়ার সময় ঝাঁকুনিতে ট্রেনের ছাদে থাকা শতাধিক যাত্রী নিচে পড়ে যান। এতে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন যাত্রী হতাহত হয়েছেন বলে তাঁরা খবর পেয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পাকশী রেল ডিভিশনের ঈশ্বরদী লোকোসেড এবং পার্বতীপুর থেকে দুটি বিশেষ উদ্ধারকারী ক্রেনবাহী ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
আবু হেনা মোস্তফা আলম বলেন, ‘ইতিমধ্যে পাকশী থেকে আমার নেতৃত্বে বিভাগীয় রেল কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে। উদ্ধারকারী ট্রেন দুটি দুই দিক থেকে কাজ শুরু করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন সচল করা সম্ভব হবে।
‘তবে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এবং লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় রেল চলাচল স্বাভাবিক হতে আজ রাত বা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় হাজার হাজার যাত্রী খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়ে আছেন। বিশেষ করে, নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সান্তাহার জংশনসহ আশপাশের স্টেশনগুলোতেও ঢাকাগামী ও উত্তরবঙ্গগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
তথ্য দিয়েছেন বগুড়া, আদমদীঘি ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি