মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্যাংক খুলে ফিলিং স্টেশনে হাজির হয়েছেন দুই ব্যক্তি। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন মেসার্স আর রহমান ফিলিং স্টেশনে এ দৃশ্য দেখা যায়।
ট্যাংক খুলে নিয়ে পাম্পে আসা ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁদের একজনের নাম আব্দুল মজিদ সরকার (৬০), অপরজন গাউসুল আযম (৫৫)। আব্দুল মজিদ সরকারের বাড়ি জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামে। তিনি পেশায় এক বিবাহ ও নিকাহ তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী)।
তেলে ট্যাংক হাতে দেখে আব্দুল মজিদ সরকারের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘দুই দিন ধরে মোটরসাইকেলে তেল নাই। বোতলে তেল দেয় না। তাই সকাল ৮টার দিকে মোটরসাইকেলের ট্যাংক খুলে নিয়ে পাম্পে এসেছি। সঙ্গে ড্রাইভিং লাইন্সেস, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র নিয়ে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি পাম্পের মিটার নষ্ট।’
আব্দুল মজিদ সরকার আরও বলেন, ‘পাম্পের লোকজন মিটারের কাজ করে ঠিক করার পর জানা গেল, ট্যাগ অফিসার নাই। যদি ট্যাগ অফিসার এক ঘণ্টা পরে আসে। আমি ট্যাংক নিয়ে তেল নিতে গেলাম। আমাকে ট্যাগ অফিসার মোটরসাইকেলের খোলা ট্যাংক দেখে তেল দিলেন না। এটা কোনো কথা? এখন বাড়িতে তেল ছাড়াই যাচ্ছি। বিয়ের রেজিস্ট্রি করার জন্য কেউ তাড়াহুড়ো করলেও হামরা (আমরা) কায়দা করব। যাই যাই করে দেরি করামো। দুই শ টাকার তেল দিলেও গাড়িখান বার করা গেল, হ্যানো ভায়ে। কও তো হামি কাজী মানুষ গাড়ি ছাড়া চলবার পাই (পারি)। তারপরও বয়স হয়ে গেছে।’
অপর ব্যক্তি গাউসুল আযম ট্যাংক খুলে তেল নিতে এসেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী থেকে। তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন থেকে মোটরসাইকেলে কোনো তেল নেই। আজ পাম্পে তেল নিতে এসেছি।’
এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তেল বিতরণ তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার কাজল মিয়া বলেন, মোটরসাইকেলের তেল নিতে হলে নিয়ম মেনেই নিতে হবে। খোলা ট্যাংকে কোনো তেল দেওয়া হবে না। মোটরসাইকেলসহ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হবে।