চট্টগ্রামের হালিশহরে এক বাসায় বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধের ঘটনায় সামির আহমেদ সুমন (৪০) নামের একজন মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, সামিরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মারা যায় শাওন (১৬)। গতকাল সোমবার মারা যান শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হলো।
বর্তমানে মো. সাখাওয়াত হোসেন ১০০ শতাংশ, মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, আশুরা আক্তার পাখি ১০০ শতাংশ, আয়েশা ৪৫ শতাংশ, ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ ও শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
এর আগে গতকাল ভোরে হালিশহরের ওই বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধ হয় মো. সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), তাঁর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী (৪০), ছেলে শাওন (১৬) ও মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা (১০) এবং সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন (৪০), তাঁর স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩৫), মেয়ে আয়েশা (৪) ও ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন হোসেন (৩০)। সন্ধ্যার দিকে তাদের বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন স্বজনেরা।
দগ্ধ সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, তাঁদের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার বাগমারা গ্রামে। সাখাওয়াত হোসেন হালিশহরে মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। পর্তুগালপ্রবাসী ভাই সুমন চলতি মাসের ৪ তারিখে দেশে আসেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য সুমন পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় আসেন। আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেরই বাসিন্দা।
মিলন আরও জানান, ভোরে তাঁরা সেহরি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস থেকে জানা গেছে, জমা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
আরও পড়ুন: