হোম > সারা দেশ > খাগড়াছড়ি

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 

ডা. মো. তারিকুল ইসলাম তারেক। ছবি: সংগৃহীত

কর্মস্থল খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হলেও সেখানে তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁকে পাওয়া যায় টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে। সিজারিয়ান অপারেশন থেকে শুরু করে সব জটিল, কঠিন অপারেশনে অ্যানেসথেটিস্টের (অবেদনবিদ) দায়িত্ব পালন করে থাকেন তিনি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে টাকার নেশায় ছুটে বেড়ানো এই চিকিৎসকের নাম মো. তারিকুল ইসলাম তারেক। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে গাইনি বিশেষজ্ঞ থাকার পরও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এমনকি এসব কারণে গত ২৫ মার্চ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে পাত্তা দেননি তিনি।

ডা. মো. তারিকুল ইসলাম খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) হিসেবে যোগদান করেন ২০২৫ সালের শুরুর দিকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে যোগদান করায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকতর সেবা নিশ্চিত করার জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞের চাহিদা দেন। পরবর্তী সময় পানছড়িতে গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা হয়। অথচ অ্যানেসথেটিস্ট তারিকুল ইসলাম নানা অজুহাতে দিনের পর দিন সেখানে অনুপস্থিত। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে এখনো সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা নিয়মিত চালু করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. তারিকুল ইসলামের আগের কর্মস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেখানে তিনি কাজ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে অ্যানেসথেটিস্টের দায়িত্ব পালন করতেন। বিষয়টি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মধুপুর থেকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে বদলি করেন। সেখানে যোগদান করেই তিনি প্রথমে বদলিজনিত ছুটির অজুহাতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর পানছড়ি থেকে মধুপুর এসে বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি অজ্ঞানের ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বেসরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ক্লিনিকেই তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন অপারেশন চলাকালে অবেদনবিদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দম ফেলার সময় থাকে না তাঁর। অনেক সময় অপারেশন শেষ হওয়ার আগেই অপারেশনরত চিকিৎসক (শল্য চিকিৎসক) ও ক্লিনিকমালিকদের বলে ছুটে যান আরেক ক্লিনিকে। ওটি রুম থেকে বের হয়েই ১ হাজার ৫০০ টাকা ক্লিনিক ম্যানেজারদের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে ছুটে চলেন আরেক ওটির দিকে। এভাবেই সকাল ১০টা থেকে রাত ১২-১টা পর্যন্ত চলে তাঁর ব্যস্ততা।

৫ এপ্রিল রোববার ডিজিটাল ক্লিনিক, চৌধুরী ক্লিনিকসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশনে অ্যানেসথেটিস্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ৪ এপ্রিল শনিবার এবং ৩ এপ্রিল শুক্রবারও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন মধুপুর ও ধনবাড়ীর ক্লিনিকে। এমনকি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ থাকলে সেখানেও তাঁর অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য পাওয়া গেছে।

মধুপুরের জামালপুর রোডের ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান জানান, তাঁদের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে বিভিন্ন অপারেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে ডা. তারিকুল ইসলাম অ্যানেসথেটিস্টের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাঁদের ডিজিটাল হাসপাতালেও তিনি প্রায়ই অজ্ঞানের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চৌধুরী আউটডোর ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. জহরলাল চৌধুরীও তাঁদের ক্লিনিকে তারেকের অবেদনবিদ হিসেবে কাজ করার কথা জানান।

এ ব্যাপারে ডা. তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি পানছড়িতে অফিস করি। তবে অনেক দূরের পথ তো, তাই মাঝেমধ্যে অনুপস্থিত থাকি। আর মধুপুরে আমার সামাজিকতাও রক্ষা করতে হয়।’ পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাননি।

ডা. তারেকের দায়িত্ব অবহেলার ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অনুতোষ চাকমা বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে ডা. তারিকুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। মাসে কয়েক দিন দায়িত্ব পালন করেন। নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। ফেব্রুয়ারি মাসে দু-এক দিন অফিস করেছেন। পরে শোকজ করেছি। তিনি শোকজের জবাব না দিয়েই সিভিল সার্জনের কাছে এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানতে পেরেছি।’

এদিকে লোকবল-সংকটের কারণে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীদের হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হচ্ছে। নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরেও তাঁরা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, বলেও জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ছাবের বলেন, ‘ডা. তারিকুল ইসলামের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতের কথা বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুপস্থিত থাকেন। আমি বিষয়টি জানার পর গত মাসে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলেছি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে। উনি মধুপুরে বা ধনবাড়ী ক্লিনিকে ক্লিনিকে অ্যানেসথেটিস্টের দায়িত্ব পালন করেন, এ বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। আমি এখনই পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় শোকজ এবং বেতন বন্ধ রাখার জন্য বলব।’

চরাঞ্চলে সেচ ও নৌ চলাচলে গতি আনতে তেল বিক্রয় কেন্দ্র চালু

পলাশবাড়ীতে পেট্রল নিতে গিয়ে ভিড়ে বাইকে ঘষা, ছুরিকাঘাতে আহত ৩

ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে ট্রাক, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা চালক-হেলপারের

বগুড়ার শেরপুরে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা শুরু

বাড়ীতে ড্রামভর্তি পেট্টোল রেখে গভীর রাতে ৩০০ টাকা লিটারে বিক্রি, দণ্ড

ছেলের লাঠির আঘাতে বাবা নিহত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ট্রাক্টরচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু

মৃত্যুর পর রামেক পিআইসিইউতে সিট পেল নেহা, হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

বগুড়া-৬: ভোট শেষ হওয়ার আগেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষরের অভিযোগ