ভোলায় ভুল চিকিৎসায় ফারিয়া আক্তার (২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন নিহত নারীর স্বজনেরা।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে জেলা শহরের হাবিব মেডিকেল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নারীর পরিবারের দাবি, ওই মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনজেকশন পুশ করার পরই প্রসূতির মৃত্যু হয়। নিহত ফারিয়া আক্তার সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাহিদের স্ত্রী। নাহিদ ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
নিহত ফারিয়ার স্বজনেরা জানান, আজ সকালে প্রসব ব্যথা দেখা দিলে ফারিয়া আক্তারকে ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত নার্সরা স্বাভাবিক প্রসবের উদ্দেশ্যে ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরপরই ফারিয়ার অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলা, চিকিৎসক না থাকা ও ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেছেন—এমন অভিযোগ তুলে নিহত ফারিয়ার স্বজনেরা হাবিব মেডিকেলে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুল চিকিৎসার বিষয়টি অস্বীকার করে হাবিব মেডিকেল সেন্টারের কর্মচারী রাজিব সাংবাদিকদের জানান, রোগীর অবস্থা আগে থেকেই গুরুতর ছিল। চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়নি।
হাবিব মেডিকেল সেন্টারের রিসিপসনিস্ট মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ‘রোগী আমাদের মেডিকেল সেন্টারে এসে কাউন্টার মেইনটেন করেননি। রেজিস্ট্রেশনও করেননি। ভর্তিও হননি। সরাসরি ক্লিনিকের দোতলায় চলে গেছেন। এরপর শুনেছি, রোগী মারা গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ক্লিনিকে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা এসেছেন। নৌবাহিনীর এক সদস্য চিকিৎসকও ছিলেন। তিনিও বলেছেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়নি।
ভোলার সিভিল সার্জন মু. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেননি।