হোম > সারা দেশ > নওগাঁ

প্রসূতি একাই এসেছিলেন হাসপাতালে, বাচ্চাকে দত্তক নিতে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রামেকে অভিভাবকহীন শিশু। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাই হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছিলেন তাহমিনা বেগম (২৫) নামের এক প্রসূতি। সেখানে তাঁর একটি সন্তান জন্ম হয়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই নারীর মৃত্যু হয়। মায়ের মৃত্যুর পর শিশুটির সঙ্গে কোনো অভিভাবক না থাকায় বাচ্চাটি ‘বেওয়ারিশ’ (অভিভাবকহীন) বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিশুটিকে দত্তক নিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভিড় করতে শুরু করেন কেউ কেউ।

আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রামেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির পাশে বসে রয়েছেন আয়েশা নামের এক নারী। তিনি জানান, তাঁর বোনের জন্য শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বালুবাজার গ্রামের বাসিন্দা রিপন আলী। তিনি একটি হোটেলে কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা বেগম গত রোববার মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হন।

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রোববার ওই প্রসূতি হাসপাতালে একটি সন্তানের জন্ম দেন। তিনি একাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, সঙ্গে কোনো স্বজন ছিলেন না। সন্তান প্রসবের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। তখন তাঁকে দ্রুত রামেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজশাহীতে নেওয়ার মতো কোনো অভিভাবক পাওয়া যায়নি। পরে মান্দা থানার পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও নবজাতককে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মাসুদ রানা বলেন, ওই রাতে রোগীর সঙ্গে যাওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রসূতি একাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বাড়ির যে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল, সেটিও ভুল ছিল। পরে পুলিশি হেফাজতে মা ও শিশুকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এসে লাশ নেন।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুই পুলিশ সদস্য নবজাতককে হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মা তাহমিনা বেগম মারা যান। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। খবর পেয়ে পরদিন গতকাল সোমবার তাহমিনা বেগমের ভাতিজা রেজওয়ান, ফুফাত ভাই মাহমুদ ও ভাবি দেলজান হাসপাতালে এসে মরদেহ গ্রহণ করেন।

এদিকে শিশুটির সঙ্গে কোনো অভিভাবক না থাকায় ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সেটিকে ‘বেওয়ারিশ’ বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাহমিনা বেগমের ভাতিজা রেজওয়ান। তিনি জানান, আগের দিন তাঁরাই মরদেহ গ্রহণ করেছেন এবং সব পরিচয় ও কাগজপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। লাশ দাফনের পর শিশুটিকে নিতে এসে দেখছেন, অনেকেই সেটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে দত্তক নিতে চাইছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। শিশুটির বাবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো দারিদ্র্যের কারণে বা খরচের ভয়ে তিনি পালিয়ে থাকতে পারেন। গরিব মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে তাঁরা কোনো অভিযোগ করেননি।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, বৈধ অভিভাবক উপস্থিত থাকলে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটিকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে নগরের রাজপাড়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যত দ্রুত সম্ভব শিশুটিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হবে।

কলাপাড়ায় গৃহবধূকে খালে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবনের নিচে মিলল বৃদ্ধের রক্তাক্ত লাশ

চাঁদাবাজ আমার দলের নেতা-কর্মী হলেও গ্রেপ্তার করতে হবে: হুইপ বকুল

বরিশাল সিটি করপোরেশন: ঈদের আগেই উৎসব ভাতার দাবিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিক্ষোভ

সুন্দরবনের ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্য অস্ত্রসহ আটক

শ্রীপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, কয়েকজন আহত

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: দিন যত যাচ্ছে, আমরা হতাশ হচ্ছি—বললেন বাবা ও স্বামী

আস্ত ছাগল গিলে লোকালয়েই পড়ে ছিল সুন্দরবনের অজগর

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সায়েদাবাদে অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ করবে ডিএসসিসি

খুলনায় খাবার খেয়ে অসুস্থ ৪ পরিবারের ২০ সদস্যসহ ২২ জন