লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মেয়ের শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন উপজেলার জগৎবেড় ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকার সুমন মিয়া (২১) ও তাঁর বাবা সামিউল ইসলাম (৪৮)।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী বাড়ি ফিরছিল। এ সময় ওই ইউনিয়নের শুকুরেরটারী এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে শাওন মিয়া (২০), সফিকুল ইসলামের ছেলে রিফাত হোসেন (২০) ও সামিউল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া (২১) ছাত্রীর পথরোধ করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যান।
এ ঘটনা জানতে পেরে ছাত্রীর বাবা অভিযুক্তদের বাড়ি গিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ছাত্রীর বাবা ও তাঁর প্রতিবেশীর ওপর হামলা চালান। এতে ছাত্রীর বাবা গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর হাতের আঙুল কেটে পড়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়া ও সামিউল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এবং পরবর্তী হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।